মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

গাজা গণহত্যায় ইসরায়েলের প্রতি ভারতের প্রশ্নাতীত সমর্থন

জনমতের প্রবল চাপে সবচেয়ে প্রতারক ও ভণ্ড পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীও অন্তত ইরায়েলের সমালোচনা করতে বাধ্য হলেও, ভারতের চরম ডানপন্থী সরকার গর্বের সাথে তেল আবিবের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের উপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আধিপত্য সত্ত্বেও, ইসরায়েলের শয়তানি এবং অমানবিক চেহারা বিশ্বের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং এমনকি সবচেয়ে প্রতারক ও ভণ্ড পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীও জনমতের চাপে […]

গাজা গণহত্যায় ইসরায়েলের প্রতি ভারতের প্রশ্নাতীত সমর্থন

গাজা গণহত্যায় ইসরায়েলের প্রতি ভারতের প্রশ্নাতীত সমর্থন

নিউজ ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৫

জনমতের প্রবল চাপে সবচেয়ে প্রতারক ও ভণ্ড পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীও অন্তত ইরায়েলের সমালোচনা করতে বাধ্য হলেও, ভারতের চরম ডানপন্থী সরকার গর্বের সাথে তেল আবিবের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের উপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আধিপত্য সত্ত্বেও, ইসরায়েলের শয়তানি এবং অমানবিক চেহারা বিশ্বের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং এমনকি সবচেয়ে প্রতারক ও ভণ্ড পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীও জনমতের চাপে অন্তত ইসরায়েলের সমালোচনা করতে বাধ্য হচ্ছে, তখন ভারতের চরম ডানপন্থী সরকার গর্বের সাথে তেল আবিবের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

মাশরেক নিউজের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের মুসলিম-বিরোধী মনোভাবের পেছনে দখলদার ইসরায়েলের সাথে ভারতের গভীর সখ্যতা দায়ী। ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের সমর্থক রঞ্জন সুলেমান মিডল ইস্ট মনিটর ওয়েবসাইটে এক নিবন্ধে তার দেশের সরকারের এই নীতি সমালোচনা করেছেন।

প্রতারণার অস্ত্র

গত দশকে ইসরায়েলের সাথে ভারতের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ৫৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আর বর্তমানে এই সংখ্যাটি বছরে ১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। ভারত এখন ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র ক্রেতা এবং ড্রোন ও নজরদারি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত সবকিছু আমদানি করে। ভারতে রপ্তানি করা অনেক অস্ত্র প্রযুক্তি যুদ্ধের ময়দানে বিশেষ করে ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরে পরীক্ষা করা হয়েছে।

এসব অস্ত্র কিনে ভারত কার্যত ইসরায়েলের দখলদারিত্ব, বর্ণবাদী প্রাচীর, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং এখন গাজায় সংঘটিত গণহত্যাকে সমর্থন করছে।

সরাসরি গণহত্যার দৃশ্য সম্প্রচার

গাজা উপত্যকায় যা ঘটছে তা গোপন কিছু নয়। ২০২৩ সাল ৭ অক্টোবর, থেকে এ পর্যন্ত ৬১,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু। গাজার হাসপাতালগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ত্রাণ সাহায্যের কনভয়গুলোতে বোমা হামলা করা হচ্ছে। যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে অনাহার ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের সাবেক পরিচালক ক্রেগ মোখিবারসহ বিশিষ্ট আইনজীবীরা এই গণহত্যাকে “ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত” বলে অভিহিত করেছেন।

ভারতের নীরবতা এবং তার চেয়েও যেটা খারাপ

৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের সাথে সংহতি প্রকাশকারী প্রথম বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছিলেন, এমনকি কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশের আগেই। ভারত সরকার গাজার বেসামরিক নাগরিকদের উপর নির্বিচারে বোমা হামলার নিন্দা করতে অস্বীকৃতি জানায় এমনকি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভকারীদের উপর কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা নেয়, ছাত্র ও অধিকার কর্মীদের বহিস্কার করে এবং যেসব শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক সাহসিকতার সাথে কথা বলছে এবং ইসরায়েলের সমালোচনা করছে তাদেরকেও নজরদারিতে রেখেছে ভারত সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ফিলিস্তিনের সাথে সংহতি প্রকাশের জন্য ছাত্র ইউনিয়নগুলোকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমনকি দিল্লি, মুম্বাই এবং ব্যাঙ্গালোরের মতো প্রধান শহরগুলোতে মানবিক সমাবেশগুলোও পুলিশের অনুমতি পেতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারত সরকারের এই দমন-পীড়নের সাথে ইসরায়েলি আচরণের অদ্ভুত মিল রয়েছে। যেমন: ভিন্নমতকে দমন করা এবং সমবেদনা জানানোকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা। ভারত একসময় ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনিদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিল এবং জাতিসংঘে ফিলিস্তিন মুক্তির পক্ষে কথা বলতো কিন্তু, এখন ইসরায়েলের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি বিশ্বের চোখের সামনে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান গণহত্যা চেয়ে চেয়ে দেখছে।

জনগণের কণ্ঠস্বর দমন

তবে, ভারতের নাগরিক সমাজ চুপ করে থাকেনি। দিল্লি থেকে কেরালা পর্যন্ত, স্বাধীন ও মানবাধিকার রক্ষাকারী গোষ্ঠীগুলো এবং ছাত্র সমাজ সাহসিকতার সাথে কথা বলেছে। শিল্পীরা গাজার পক্ষে ছবি আঁকছেন, আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে চিঠি লিখেছেন, শিক্ষকরা ফিলিস্তিনের পক্ষে সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং মুসলিমরা সারা দেশজুড়ে নামাজের মাধ্যমে দোয়া করছেন। যদিও তারা সরকারি দমন, ডিজিটাল নজরদারি এবং মিডিয়া আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছেন। সংবাদ চ্যানেলগুলো প্রতিবাদকারীদেরকে ভারতীয় “জাতীয়তাবাদবিরোধী” বলে অভিহিত করেছে। পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের হয়রানি বা আটক করার জন্য বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিশেষ আইন (UAPA) ব্যবহার করছে। সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ এবং সেন্সর করা হচ্ছে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

ভারতের কেন তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা উচিত

ভারত নিজেই ঔপনিবেশিক শাসনের শিকার হয়েছিল। তাই তারা দখলদারিত্বের কুপ্রভাব, বিভাজনের ক্ষত এবং সহিংসতার বোঝা এখনো বহন করে বেড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারতের বিশ্বব্যাপী উপনিবেশ বিরোধী অবস্থান ধরে রাখা উচিত এবং উপনিবেশকামী দেশগুলোর পক্ষে কথা বলা উচিত নয়। ভারত যখন গাজায় ইসরায়েলের বর্ণবাদী আচরণকে সমর্থন জানাচ্ছে তখন তাদের কারো মুখে গান্ধী এবং নেহেরুকে উদ্ধৃত করে কথা বলা মানায় না। ভারত নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যায় জড়িত ইসরায়েলি গণহত্যাকারীকে সহায়তা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্বের দাবি করতে পারে না।

সূত্র : পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯২৩

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯২৩

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরেক মুসলিম দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।

আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।

শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।

এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯২৩

আন্তর্জাতিক

ভারতকে হরমুজ ছাড়ে তিনটি ট্যাংকার ফেরত চাইলো ইরান

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৮

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিলো, জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিস্থ ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কোনো আলোচনার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সোমবার বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯২৩