রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

নতুন ৮ দেশে এস আলমের টাকাপাচারের চিহ্ন, ১১৭ দেশে এই প্রথম নজিরবিহীন তল্লাশি

বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক অর্থপাচারের গোপন সাম্রাজ্যের চিত্র ফাঁস হয়েছে বিশ্বজুড়ে চালানো একটি তদন্তে। চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নয়টি দেশে ছড়িয়ে থাকা ৪৭০টিরও বেশি শেল কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা) পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই অঙ্ক বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় […]

নতুন ৮ দেশে এস আলমের টাকাপাচারের চিহ্ন, ১১৭ দেশে এই প্রথম নজিরবিহীন তল্লাশি

নতুন ৮ দেশে এস আলমের টাকাপাচারের চিহ্ন, ১১৭ দেশে এই প্রথম নজিরবিহীন তল্লাশি

নিউজ ডেস্ক

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫০

বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক অর্থপাচারের গোপন সাম্রাজ্যের চিত্র ফাঁস হয়েছে বিশ্বজুড়ে চালানো একটি তদন্তে। চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নয়টি দেশে ছড়িয়ে থাকা ৪৭০টিরও বেশি শেল কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা) পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই অঙ্ক বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় চার শতাংশ, যা আধুনিক বিশ্বের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির পর্যায়ে নিয়ে গেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শুরু হওয়া অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিলাসবহুল ভিলা, পাঁচতারকা হোটেল, অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং গোপন নাগরিকত্ব কেনার মতো বিস্ময়কর সম্পদের বিস্তার। দীর্ঘদিন গোপন থাকার এখন যা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বেপরোয়া আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়ে উঠছে।

নতুন ৮ দেশে এস আলমের টাকাপাচারের চিহ্ন, ১১৭ দেশে এই প্রথম নজিরবিহীন তল্লাশি 1

৪৭০ শেল কোম্পানির আড়ালে ২ লাখ কোটি টাকা পাচার

অন্তত নয়টি বিদেশি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—এস আলম গ্রুপ অন্তত ৪৭০টি ‘শেল কোম্পানি’র মাধ্যমে নয়টি দেশে পাচার করেছে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা (২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশের সমান টাকা একক কোনো করপোরেট চক্রের হাত ধরে দেশের বাইরে পাচার, এমন কেলেঙ্কারি দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই।

নতুন ৮ দেশে এস আলমের টাকাপাচারের চিহ্ন, ১১৭ দেশে এই প্রথম নজিরবিহীন তল্লাশি 2

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থপাচারের এই ধরন ছিল জটিল ও বহুমুখী। দীর্ঘ পরিকল্পনা করে প্রতিটি দেশে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক শেল কোম্পানি। কাগজে-কলমে এগুলো আলাদা প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তবে একই নেটওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। আর্থিক উৎস গোপন রাখতে এসব কোম্পানি নিবন্ধনের সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো মূলধন উল্লেখ করা হয়নি।

নতুন ৮ দেশে এস আলমের টাকাপাচারের চিহ্ন, ১১৭ দেশে এই প্রথম নজিরবিহীন তল্লাশি 3

১১৭ দেশে একযোগে অনুসন্ধান এই প্রথম

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অনুসন্ধান কার্যক্রম সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড। কিন্তু এস আলমের বেলায় এসে তদন্তের এই সীমা ভেঙে গেছে।

এস আলমভিত্তিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারী বিশেষ পর্যালোচনা কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেনের নির্দেশনায় তদন্তকারীরা নজিরবিহীনভাবে ১১৭টি দেশে সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধান চালায়। এই অনুসন্ধান ছিল শুধু অনুমানের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের সক্রিয় সহযোগিতায় সেখানে এস আলমের প্রকৃত বিনিয়োগ, সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ফলাফলও ছিল চমকপ্রদ। সাইপ্রাস, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, ইতালি, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, জার্সি, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আইল অব ম্যানসহ বহু অঞ্চলে এস আলম সংশ্লিষ্টদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে সাতটি দেশ তদন্ত দলের কাছে প্রমাণসাপেক্ষ তথ্য সরবরাহ করেছে। বাকি দেশগুলো শুধুমাত্র নোট পাঠিয়েছে।

এই সাত দেশের সুনির্দিষ্ট নথির ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জটিল আন্তঃসীমান্ত আইনি প্রক্রিয়া অতিক্রম করে আদালতের আদেশ পান, যার মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, জার্সি, সাইপ্রাস ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি মিলেছে।

ট্যাক্স হেভেনে হাজার কোটির শেল কোম্পানি

আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের তদন্ত দল করের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সাইফুল আলম মাসুদ বা তার পরিবারের নামে নিবন্ধিত ১৯টি কোম্পানি চিহ্নিত করেছে। কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে নিবন্ধিত। আওয়ামী লীগ আমলে ঠিক ওই সময়ে ব্যাংক খাতে এস আলম গ্রুপের বেপরোয়া হস্তক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

মাসুদ ও ফারজানা পারভীনের মালিকানাধীন একাধিক শেল কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ৩৫০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা) মূলধন দেখানো হ্যাজেল ইন্টারন্যাশনাল এবং পিকক প্রপার্টি হোল্ডিংস।

একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হলো গ্রিনউইচ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট নিবন্ধিত হয়। অন্যদিকে প্রায় সবগুলো কোম্পানি নিবন্ধনের সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো মূলধন উল্লেখ করা না হলেও হ্যাজেল ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের বেলায় এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ সাইফুল আলম মাসুদের নামে নিবন্ধিত ওই কোম্পানির ঘোষিত মূলধন দেখানো হয় ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ কোটি টাকা)।

ট্যাক্স হ্যাভেন বা করের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত স্বশাসিত ব্রিটিশ অঞ্চল জার্সিতে সাইফুল আলম মাসুদ ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনকে স্থানীয় একটি ট্রাস্ট কোম্পানির মাধ্যমে ছয়টি জার্সি ট্রাস্টের যৌথ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পাওয়া গেছে। এই জার্সি ট্রাস্টগুলো হচ্ছে— ম্যাপল, ক্যাপ্রি, সারে, শেন্টন, মারিনা, মিশন। এসবের মাধ্যমে তারা মালিক হয়েছেন অন্তত দুটি পাঁচ তারকা হোটেলের। ম্যাপল ট্রাস্ট রেনেসাঁ হোটেল ও ফোর পয়েন্টস শেরাটন (মালয়েশিয়া) নামের এই দুটি হোটেলের বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ২ হাজার ২০৩ কোটি টাকা)।

মেজ ছেলে সাত মিলিয়নের ভিলা মালিক

করের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত আরেক অঞ্চল ‘আইল অফ ম্যান’-এ চেয়ারম্যানের সাইফুল আলম মাসুদের মেজ ছেলে ২৫ বছর বয়সী আশরাফুল আলমের মালিকানায় রয়েছে ৭ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৭৫ কোটি টাকা) একটি ভিলা, যার ঠিকানা ব্রিটেনের কর্টন এলাকার লেদারহেড অক্সশটের ব্রুকউডের ১৫ নম্বর প্রিন্সেস ড্রাইভ। ২০২০ সালে কেনা এই সম্পত্তি আশরাফুলের মা ফারজানা পারভীনের উপহার হিসেবে নিবন্ধিত। এটি আগে সিঙ্গাপুরে বন্ধক ছিল।

তুরস্কে দুই ভাইয়ের ১০ প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্ট

তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব জিরাত ব্যাংক ও দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাকিফলার ব্যাংকে সাইফুল আলম মাসুদের দুই ভাই শহীদুল আলম ও ওসমান গনিসহ সহযোগীদের নামে অন্তত ১০টি ‘প্রিমিয়াম’ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত হয়েছে। এসব ‘প্রিমিয়াম’ অ্যাকাউন্ট সাধারণত বড় অঙ্কের আমানতের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এসব একাউন্টে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো লেনদেন সংযুক্ত নয়।

দুবাইয়ের বিলাসী ভিলায় লাখ লাখ ডলার

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মাসুদের বড় মেয়ে মায়মুনা খানমের স্বামী বেলাল আহমেদের নামে নিবন্ধিত অন্তত ছয়টি বিলাসবহুল ভিলার খোঁজ মিলেছে, যার দাম ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১৮ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা) মধ্যে। এছাড়া চট্টগ্রামভিত্তিক ইউনিটেক্স গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার বেলালের নামে দুটি প্লটও আছে আমিরাতে, যার মোট মূল্য প্রায় ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা)। দুবাইয়ে ফ্যান্টম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বেলাল আহমেদ এবং স্প্রিংহিল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং নামের অপর একটি কোম্পানির নামে তার শাশুড়ি ফারজানা পারভীন একাধিক বিলাসবহুল ভিলা ও জমি কিনেছেন।

সাইপ্রাসে কোটি ডলারের সম্পত্তির রহস্য

সাইপ্রাসের অভিজাত লিমাসল (পারেকলিসিয়া) এলাকায় একটি দোতলা ভবন রয়েছে এস আলমের, যার মূল্য অজানা। ভূমধ্যসাগরের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপদেশটিতে সাইফুল আলম মাসুদ ও তার মালিকানাধীন এক্লেয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে অন্তত তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যা বর্তমানে বন্ধ। ২০১৬ সালে এক্লেয়ার ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি কেনার পর নাম বদলে এক্লেয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড রাখা হয়।

এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ সপরিবারে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব নেন ২০০৯ সালে। এর বিনিময়ে তাকে দেশটির আবাসনখাতে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করতে হয়। এছাড়া সরকারি গবেষণা ও ভূমি উন্নয়ন তহবিলে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা) অনুদান হিসেবে দিতে হয়।

সিঙ্গাপুরে ২১ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিলিয়নের মালিকানা

সিঙ্গাপুরে সাইফুল আলম মাসুদ, ফারজানা পারভীন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে ২১টিরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ১৭টির বেশি বীমা পলিসি ও ব্রোকারেজ বিনিয়োগ রয়েছে।

২০০৯ সালের ২৭ আগস্ট সাইফুল আলম মাসুদ ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন নিজেদের ‘সাইপ্রাসের নাগরিক’ উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরে ক্যানালি লজিস্টিকস প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেন। প্রতিষ্ঠানটির মূলধন দেখানো হয় ২২ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৫ কোটি টাকা)।

২০১৬ সালের ১২ জুলাই ক্যানালি লজিস্টিক্সের নাম বদলে রাখা হয় ভেঞ্চুরা ইন্টারন্যাশনাল— যার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২০১৫০১০২৮৪৯২ (১১৫৩৮১৬-এক্স) ঠিকানা কুয়ালালামপুরের ৬৩ জালান আমপাং উইজমা প্যারাডাইসের লেভেল ৬-এর স্যুট ৬.০১। অন্যদিকে ব্যবসায়িক ঠিকানা কুয়ালালামপুরের L11-1, জালান সুলতান আবদুল সামাদ ব্রিকফিল্ডসের মেনারা সেন্ট্রাল ভিস্তার ১১তম ফ্লোর। কোম্পানিটির মোট ৫০ লাখ শেয়ারের ৩৫ লাখই মাসুদের নামে আর স্ত্রী ফারজানা পারভীনের নামে ১৫ লাখ শেয়ার।

অন্যদিকে ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর মাসুদেরই মালিকানাধীন ক্যানালি শিপিংয়ের নাম বদলে রাখা হয় উইলকিনসন ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড, যার সম্পদের মূল্য পরবর্তী কয়েক বছরে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি (প্রায় ১ হাজার ৫৫ হাজার কোটি টাকা) দাঁড়ায়। মাসুদ ও তার স্ত্রী ফারজানা ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর উইলকিনসনে নিজেদের পুরো মালিকানা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের পিকক প্রপার্টি হোল্ডিংস ও নিউহ্যাভেন কর্পোরেট সার্ভিস নামের দুটি কোম্পানিতে হস্তান্তর করেন। পিকক প্রোপার্টি হোল্ডিংস উইলকিনসনের ৩ কোটি সিঙ্গাপুরিয়ান ডলারের সমমূল্যের শেয়ারের পুরোটার মালিক। পিককের পেছনে আছে জার্সিভিত্তিক আরেক শেল কোম্পানি সানতেরা। তবে অং লে কিম নামে সিঙ্গাপুরের এক নাগরিককে উইলকিনসনের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করেন। সিঙ্গাপুরে এই কোম্পানির ঠিকানা ইউওবি প্লাজার ৮০ রেফলস প্লেইস। পাঁচ বছর আগে ২০২০ সালে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩৪০ কোটি টাকা।

২০১৬ সালে এস আলম গ্রুপ ভেঞ্চুরা ইন্টারন্যাশনালের নামে কুয়ালালামপুরের পাঁচতারা হোটেল রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর কিনে নেয়। হোটেলটি গত ২০ বছর ধরে পরিচালনা করে আসছিল ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল, তারাই পরবর্তী ১০ বছরের জন্য হোটেলের দায়িত্ব নেয় আবার। এজন্য এস আলম গ্রুপ ব্যয় করে বাংলাদেশি টাকায় ১ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।

২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট এস আলমের ক্যানালি লজিস্টিকস সিঙ্গাপুরের লিটল ইন্ডিয়ায় ১৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) গ্র্যান্ড চ্যান্সেলর প্রাইভেট লিমিটেড হোটেল কিনে নেয়। এর এক বছর পর হোটেলটির নাম বদলে প্রথমে ‘গ্র্যান্ড ইম্পেরিয়াল’ এবং পরে ‘হিলটন গার্ডেন ইন সেরাঙ্গুন’ করা হয়। এর দুই বছর পর সিঙ্গাপুরের লিটল ইন্ডিয়ার সেরাঙ্গুন প্লাজায় অবস্থিত সেন্ট্রিয়াম স্কয়ারে ১৫৩ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) ২৭ হাজার বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেস কিনে নেয় এস আলমের ক্যানালি।

মাসুদ ও তার পরিবার পরে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্বও নেন। তবে দেশ দুটিতে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমোদন না থাকায় তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রত্যাহার করেন মাসুদ ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং তাদের তিন ছেলে আহসানুল আলম, আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহির। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় সেদিনই সন্ধ্যায় বিদেশি নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসের (পারমানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল) অনুমোদনও পায় পরিবারটি। বিদেশি নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসের (পারমানেন্ট রেসিডেন্সি) সুযোগ পেতে এস আলম পরিবারের সদস্যরা জনপ্রতি বিনিয়োগ দেখান ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৯০ লাখ টাকা) করে।

লেনদেন চলছেই ইটালির দুই একাউন্টে

ইটালিয়ান আর্থিক প্রতিষ্ঠান পোস্তে ইতালিয়ানে এসপিএ-তে সাইফুল আলম মাসুদ ও তার জামাতা বেলাল আহমেদের নামে দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যাতে লেনদেন এখনও সক্রিয়। এছাড়া আরেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এক্সট্রাবাঙ্কা এসপিএতে মাসুদের একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যা বর্তমানে বন্ধ।

জামাতার অ্যান্টিগুয়া নাগরিকত্বের টাকা আসে কানাডা থেকে

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সাইফুল আলমের জামাতা বেলাল আহমেদ অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব কিনেছেন দেশটির ‘সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে, যেখানে জাতীয় উন্নয়ন তহবিলে ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা) দিতে হয়।

লেনদেনের নথি বলছে, ওই অর্থ এসেছিল কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মিসিসাগায় অবস্থিত টরন্টো-ডমিনিয়ন ব্যাংকে বেলাল আহমেদের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৫ ডলারের (প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা) অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে। আবেদনপত্র প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধানের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান জেমস অ্যান্ড ম্যাগিনলি লিমিটেড ওই অর্থ গ্রহণ করে নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

গায়ের জোরে ব্যাংক দখলে এস আলম

চট্টগ্রামভিত্তিক বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান এস আলমের উত্থানের পেছনে অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল দেশের ব্যাংক খাতে আগ্রাসী দখল ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংককে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ ধীরে ধীরে চলতে থাকে। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি চূড়ান্তভাবে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সরাসরি সহযোগিতায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বাড়ি থেকে তুলে ঢাকার সেনানিবাসে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয় এবং একই দিন নতুন কর্মকর্তাদের বসানো হয়।

একই কৌশলে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডও (এসআইবিএল) দখল করা হয়। দখলের আগে ১৯টি প্রক্সি কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাংকের প্রায় ৫০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় এস আলম, যা ছিল সরাসরি ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের লঙ্ঘন।

দুর্নীতির মামলা ও বর্তমান অবস্থা

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, সাইফুল আলম ও তার সহযোগীরা আত্মীয়দের নামে ভুয়া ঋণ ও বিনিয়োগ তৈরি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আদালত ইতোমধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দুদক সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী ফারজানার বিরুদ্ধে ১ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকার (প্রায় ১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা) অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করেছে। এছাড়া তাদের দুই ছেলে আহসানুল আলম মারুফ ও আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা (প্রায় ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।