শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

অভিযানের খবরে আত্মগোপনে মোহাম্মদপুরের ছিনতাই চক্রের মূলহোতারা

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠেছিল অপরাধীরা। ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্রের ঝনঝনানিতে অশান্ত মোহাম্মদপুরে সাড়াশি অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত তিন দিনে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শতাধিকের বেশি অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানের খবরে মোহাম্মদপুর ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন ছিনতাই চক্রের মূলহোতারা। তবে এখনো ছিনতকারীদের আতঙ্কে স্থানীয়রা। স্থানীয়দের সঙ্গে […]

নিউজ ডেস্ক

৩০ অক্টোবর ২০২৪, ১৭:১৫

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠেছিল অপরাধীরা। ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্রের ঝনঝনানিতে অশান্ত মোহাম্মদপুরে সাড়াশি অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত তিন দিনে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শতাধিকের বেশি অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানের খবরে মোহাম্মদপুর ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন ছিনতাই চক্রের মূলহোতারা। তবে এখনো ছিনতকারীদের আতঙ্কে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরে দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতের আঁধারে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের অস্ত্রের মহড়ায় ভীতসন্ত্রস্ত বাসিন্দারা। প্রতিদিনই অলিতে গলিতে অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষের মূল্যবান সামগ্রী ও অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে যায় অপরাধীরা।
গত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত মোহাম্মদপুরে প্রতিপক্ষের হামলা ও গুলিতে শিশুসহ ১০ জনের প্রাণ গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মোহাম্মদপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের স্পট বন্ধ না হয় ততক্ষণ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের খবরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে মোহাম্মদপুরের ছিনতাই চক্রের মূল হোতারা। যাদের মধ্যে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তা, চাঁদ উদ্যান, লাউতলা ও বসিলা এলাকার ছিনতাই চক্রের মূলহোতা রাসেল ওরফে ভাত রাসেল। নবদয়, ঢাকা উদ্যান, নবীনগর, আদাবর এলাকার আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত কব্জিকাটা গ্রুপের মূলহোতা আনোয়ার, ইউনুস, রাফাত, আহমেদ, তুষার,বেল্লাল ওরফে ভাইগ্না বেল্লাল, নাঈম ওরফে ভাইগ্না নাঈম, রাফি, মোহন।
গত ১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ঘোষণা দিয়ে বেল্লাল নামের এত যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে কব্জিকাটা গ্রুপের সদস্যরা। এই চক্রটি মোহাম্মদপুরজুড়ে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখল ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। জানা গেছে, কব্জিকাটা গ্রুপ এক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী বাদলের ছত্রছায়ায় থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার আর্শিবাদে টিকে আছে। তাদের রক্ষায় ইতোমধ্যে নিজেই মাঠে নেমেছেন বিএনপির এই নেতা। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী ওই বিএনপি নেতার হয়ে কব্জিকাটা গ্রুপের আনোয়ার তার হয়ে প্রতিপক্ষ মোকাবিলায় কাজ করবে। তাই বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে আনোয়ার ও তার চক্রের সদস্যদের রক্ষায় নিজের বাড়িতে স্থান দিয়েছেন।
তবে মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় এখনো সক্রিয় স্থানীয় অসামাজিক কার্যক্রমের মূলহোতা শাহাবুদ্দিন শাবু ও তার দুই ছেলে সজিব-সোহান। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ছিনতাই করে আসছে।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর থেকে মোহাম্মদপুরে শুরু হওয়া যৌথ বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত শতাধিক ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকের স্পট দখল নিয়ে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে চলা গোলাগুলির ঘটনায় দুটি বিদেশি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৭ মাদক ব্যবসায়ীকে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখান হাসান বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সব অপরাধী গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে।
গত চার দিনে শতাধিক ছিনতাইকারী গ্রেফতার করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানায় চলতি মাসে ৬৩টি ছিনতাই মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।