শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বরিশালে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চাই: চিকিৎসা বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের এখনই সময়

স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশাল, যুগ যুগ ধরে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। যখন আমরা উন্নয়নের কথা বলি, তখন এর প্রতিটি শাখা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ—সমভাবে বিবেচনায় আসা উচিত। অথচ বাস্তবচিত্র বলছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি সেই সমতা বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে এই অবহেলিত অঞ্চলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলার। সেই […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৩:৩১

স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশাল, যুগ যুগ ধরে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। যখন আমরা উন্নয়নের কথা বলি, তখন এর প্রতিটি শাখা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ—সমভাবে বিবেচনায় আসা উচিত।

অথচ বাস্তবচিত্র বলছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি সেই সমতা বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে এই অবহেলিত অঞ্চলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলার। সেই দাবির প্রথম সারিতে থাকা উচিত—বরিশালে একটি চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থাপন।

চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল: এক নতুন দিগন্ত:- সম্প্রতি চীন সরকার বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে তিনটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এসব হাসপাতালের মধ্যে একটি ১ হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নীলফামারীতে, আরেকটি চট্টগ্রামে ৫০০–৭০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল এবং একটি ১০০ শয্যার রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল ঢাকার ধামরাইয়ে নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে।

কিন্তু দক্ষিণাঞ্চল? এত বড় একটি জনপদের কোথাও কোনো হাসপাতালের নাম নেই। অথচ বরিশাল বিভাগে প্রায় এক কোটি মানুষ বসবাস করেন। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দেশের সবচেয়ে পশ্চাৎপদগুলোর মধ্যে একটি।

এমন অবস্থায় বরিশালে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের একটি শাখা স্থাপন সময়োপযোগী ও জরুরি একটি পদক্ষেপ।

দক্ষিণাঞ্চল মানেই বঞ্চনা:- নলছিটি সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান মাহমুদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দক্ষিণাঞ্চল মানেই বঞ্চনা—বরিশালের প্রতি বৈষম্য কতদিন চলবে?” তার কথার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে।

চিকিৎসা, শিক্ষা, অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়ার কারণ একটাই—নীতি নির্ধারণে দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠস্বর নেই।

স্বাস্থ্য খাতেই যদি নজর দিই, দেখা যায় বরিশালে একমাত্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু এটি বছরের পর বছর ধরে অবকাঠামো ও জনবল সংকটে ভুগছে। নেই আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার সুবিধা, নেই হৃদরোগ ইনস্টিটিউট।

এমনকি উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবাও সুলভ নয়। ফলে সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ঢাকামুখী হওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ে, এবং অনেক সময় জীবনও হুমকির মুখে পড়ে।

ঢাকামুখী চাপ কমাতে বরিশালকে গুরুত্ব দিন:-

ঢাকায় ইতোমধ্যে একটি চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল রয়েছে, যা উন্নত চিকিৎসা সেবার একটি মডেল হয়ে উঠেছে। বরিশালে একই ধরনের একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হলে শুধু বরিশাল নয়, আশেপাশের আরও অন্তত ১০–১৭টি জেলার মানুষ এতে উপকৃত হবে।

ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ নদীবেষ্টিত অসংখ্য দুর্গম এলাকার মানুষ ঢাকার পরিবর্তে বরিশালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন।

এছাড়া বরিশাল ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু। বরিশাল থেকে নদীপথ, সড়কপথ ও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য রেলপথ ব্যবহার করে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব। বরিশাল হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা হাব।

অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও রয়েছে:- সরকার চাইলে বরিশালে দ্রুত জমি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব। শহরের আশপাশে পর্যাপ্ত সরকারি জমি রয়েছে যেখানে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণ করা যেতে পারে।

বরিশাল-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, বরিশাল বিমানবন্দর এবং উন্নত নৌযোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এটি একটি আদর্শ স্থান।

উন্নয়নের বৈষম্য: কখন শেষ হবে? পূর্ববর্তী সরকারের সময় বরিশাল-ভাঙ্গা ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল। এটি বাস্তবায়িত হলে বরিশাল বিভাগ দেশের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারত। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য বিভাগে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে—মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, উত্তরা ক্যান্সার হাসপাতাল, ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণ ইত্যাদি। দক্ষিণাঞ্চল বরাবরই এসব উন্নয়নের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

শিক্ষা ও গবেষণায়ও পিছিয়ে বরিশাল:- শুধু স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও বরিশাল অবহেলিত। এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নেই।

নেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এসব প্রতিষ্ঠান জরুরি, যা দক্ষিণাঞ্চলে এখনো বাস্তবতা হয়ে ওঠেনি।

একটি হাসপাতাল হতে পারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ:- চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল শুধুই একটি হাসপাতাল নয়, এটি আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের প্রতীক, উন্নয়নের মডেল।

বরিশালে এর একটি শাখা হলে তা শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, বরিশালের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখবে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হয়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র, বাড়বে কর্মসংস্থান, গড়ে উঠবে সহায়ক অবকাঠামো।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সমাজ বিশ্লেষক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এর মতে, বরিশালে এই হাসপাতাল হলে দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এক নতুন গতিপথ পাবে।

বরিশাল হয়ে উঠতে পারে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু।

দক্ষিণাঞ্চল আর নীরব থাকবে না:- দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এখন প্রশ্ন তোলে—আমরা কি বাংলাদেশের বাইরে? কেন আমাদের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনায় কোনো বরাদ্দ থাকে না? কেন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামোতে আমরা পিছিয়ে?

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমাদের কণ্ঠস্বর নেই বলেই কি এই অবহেলা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের দাবি।

আমাদের দাবি:- ১. বরিশালে চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থাপন।

২. বরিশাল-ভাঙ্গা ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে পুনরায় চালু।

৩. বরিশালে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ও হৃদরোগ ইনস্টিটিউট।

৪. বরিশালে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

৫. বরিশালের পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব।

৬. ফরিদপুর–বরিশাল–কুয়াকাটা রেল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন।

পরিশেষে, বাংলাদেশের একটি টেকসই, সমতাভিত্তিক ও মানবিক উন্নয়ন কাঠামো গঠনের জন্য বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব দিতে হবে।

একটি চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল বরিশালে স্থাপন করা হলে তা হবে একটি প্রতীকী নয়, কার্যকর পদক্ষেপ। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, উন্নয়ন ও সমতার বার্তা বহন করবে।

এখন সময় এসেছে, দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠ আর নিস্তব্ধ থাকবে না। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ ।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।