বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বরিশালে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চাই: চিকিৎসা বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের এখনই সময়

স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশাল, যুগ যুগ ধরে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। যখন আমরা উন্নয়নের কথা বলি, তখন এর প্রতিটি শাখা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ—সমভাবে বিবেচনায় আসা উচিত। অথচ বাস্তবচিত্র বলছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি সেই সমতা বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে এই অবহেলিত অঞ্চলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলার। সেই […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৩:৩১

স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশাল, যুগ যুগ ধরে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। যখন আমরা উন্নয়নের কথা বলি, তখন এর প্রতিটি শাখা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ—সমভাবে বিবেচনায় আসা উচিত।

অথচ বাস্তবচিত্র বলছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি সেই সমতা বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে এই অবহেলিত অঞ্চলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলার। সেই দাবির প্রথম সারিতে থাকা উচিত—বরিশালে একটি চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থাপন।

চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল: এক নতুন দিগন্ত:- সম্প্রতি চীন সরকার বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে তিনটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এসব হাসপাতালের মধ্যে একটি ১ হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নীলফামারীতে, আরেকটি চট্টগ্রামে ৫০০–৭০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল এবং একটি ১০০ শয্যার রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল ঢাকার ধামরাইয়ে নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে।

কিন্তু দক্ষিণাঞ্চল? এত বড় একটি জনপদের কোথাও কোনো হাসপাতালের নাম নেই। অথচ বরিশাল বিভাগে প্রায় এক কোটি মানুষ বসবাস করেন। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দেশের সবচেয়ে পশ্চাৎপদগুলোর মধ্যে একটি।

এমন অবস্থায় বরিশালে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের একটি শাখা স্থাপন সময়োপযোগী ও জরুরি একটি পদক্ষেপ।

দক্ষিণাঞ্চল মানেই বঞ্চনা:- নলছিটি সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান মাহমুদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দক্ষিণাঞ্চল মানেই বঞ্চনা—বরিশালের প্রতি বৈষম্য কতদিন চলবে?” তার কথার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে।

চিকিৎসা, শিক্ষা, অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়ার কারণ একটাই—নীতি নির্ধারণে দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠস্বর নেই।

স্বাস্থ্য খাতেই যদি নজর দিই, দেখা যায় বরিশালে একমাত্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু এটি বছরের পর বছর ধরে অবকাঠামো ও জনবল সংকটে ভুগছে। নেই আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার সুবিধা, নেই হৃদরোগ ইনস্টিটিউট।

এমনকি উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবাও সুলভ নয়। ফলে সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ঢাকামুখী হওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ে, এবং অনেক সময় জীবনও হুমকির মুখে পড়ে।

ঢাকামুখী চাপ কমাতে বরিশালকে গুরুত্ব দিন:-

ঢাকায় ইতোমধ্যে একটি চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল রয়েছে, যা উন্নত চিকিৎসা সেবার একটি মডেল হয়ে উঠেছে। বরিশালে একই ধরনের একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হলে শুধু বরিশাল নয়, আশেপাশের আরও অন্তত ১০–১৭টি জেলার মানুষ এতে উপকৃত হবে।

ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ নদীবেষ্টিত অসংখ্য দুর্গম এলাকার মানুষ ঢাকার পরিবর্তে বরিশালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন।

এছাড়া বরিশাল ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু। বরিশাল থেকে নদীপথ, সড়কপথ ও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য রেলপথ ব্যবহার করে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব। বরিশাল হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা হাব।

অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও রয়েছে:- সরকার চাইলে বরিশালে দ্রুত জমি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব। শহরের আশপাশে পর্যাপ্ত সরকারি জমি রয়েছে যেখানে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণ করা যেতে পারে।

বরিশাল-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, বরিশাল বিমানবন্দর এবং উন্নত নৌযোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এটি একটি আদর্শ স্থান।

উন্নয়নের বৈষম্য: কখন শেষ হবে? পূর্ববর্তী সরকারের সময় বরিশাল-ভাঙ্গা ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল। এটি বাস্তবায়িত হলে বরিশাল বিভাগ দেশের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারত। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য বিভাগে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে—মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, উত্তরা ক্যান্সার হাসপাতাল, ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণ ইত্যাদি। দক্ষিণাঞ্চল বরাবরই এসব উন্নয়নের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

শিক্ষা ও গবেষণায়ও পিছিয়ে বরিশাল:- শুধু স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও বরিশাল অবহেলিত। এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নেই।

নেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এসব প্রতিষ্ঠান জরুরি, যা দক্ষিণাঞ্চলে এখনো বাস্তবতা হয়ে ওঠেনি।

একটি হাসপাতাল হতে পারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ:- চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল শুধুই একটি হাসপাতাল নয়, এটি আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের প্রতীক, উন্নয়নের মডেল।

বরিশালে এর একটি শাখা হলে তা শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, বরিশালের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখবে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হয়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র, বাড়বে কর্মসংস্থান, গড়ে উঠবে সহায়ক অবকাঠামো।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সমাজ বিশ্লেষক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এর মতে, বরিশালে এই হাসপাতাল হলে দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এক নতুন গতিপথ পাবে।

বরিশাল হয়ে উঠতে পারে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু।

দক্ষিণাঞ্চল আর নীরব থাকবে না:- দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এখন প্রশ্ন তোলে—আমরা কি বাংলাদেশের বাইরে? কেন আমাদের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনায় কোনো বরাদ্দ থাকে না? কেন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামোতে আমরা পিছিয়ে?

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমাদের কণ্ঠস্বর নেই বলেই কি এই অবহেলা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের দাবি।

আমাদের দাবি:- ১. বরিশালে চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থাপন।

২. বরিশাল-ভাঙ্গা ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে পুনরায় চালু।

৩. বরিশালে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ও হৃদরোগ ইনস্টিটিউট।

৪. বরিশালে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

৫. বরিশালের পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব।

৬. ফরিদপুর–বরিশাল–কুয়াকাটা রেল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন।

পরিশেষে, বাংলাদেশের একটি টেকসই, সমতাভিত্তিক ও মানবিক উন্নয়ন কাঠামো গঠনের জন্য বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব দিতে হবে।

একটি চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল বরিশালে স্থাপন করা হলে তা হবে একটি প্রতীকী নয়, কার্যকর পদক্ষেপ। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, উন্নয়ন ও সমতার বার্তা বহন করবে।

এখন সময় এসেছে, দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠ আর নিস্তব্ধ থাকবে না। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।