বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নরসিংদীতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

কিছুদিন পরেই মুসলিম উম্মাহর সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর। নতুন পোশাক ঈদ আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুন। সারা দেশের ন্যায় নরসিংদীর মার্কেট গুলোতে ও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদকে সামনে রেখে সকল শ্রেনী পেশার মানুষেরা ব্যস্ত নিজেদের ঈদের কেনাকাটা নিয়ে। নরসিংদী শহরের প্রতিটি মার্কেটের বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় আর কেনাকাটার হিড়িক।  নরসিংদী শহরের বিভিন্ন […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ মার্চ ২০২৫, ০০:৫৫

কিছুদিন পরেই মুসলিম উম্মাহর সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর। নতুন পোশাক ঈদ আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুন। সারা দেশের ন্যায় নরসিংদীর মার্কেট গুলোতে ও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা।

ঈদকে সামনে রেখে সকল শ্রেনী পেশার মানুষেরা ব্যস্ত নিজেদের ঈদের কেনাকাটা নিয়ে। নরসিংদী শহরের প্রতিটি মার্কেটের বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় আর কেনাকাটার হিড়িক। 

নরসিংদী শহরের বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট, ব্রান্ডের আউটলেট ও দোকান গুলো ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই বাহারি ডিজাইনের নতুন নতুন সব পোশাকের পসরা সাজিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে মালিকেরা।

প্রতিট দোকানেই ক্রেতা সমাগম অনেক আশাব্যঞ্জক। বিক্রয় কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন পোশাক প্রদর্শন ও বিক্রিতে।

ক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজদের পছন্দের পোশাক কিনতে। তীব্র গরমের ভ্যাপসা উত্তাপেও থেমে নেই ক্রেতা সাধারনে কেনাকাটার আগ্রহ। 

পাঞ্জাবি, শার্ট, টি শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া , প্যান্ট জুতা সহ সকল ধরনের পোশাকেই ছেয়ে আছে শপিংমল ও বিপণিবিতানগুলো। এছাড়াও মহিলাদের পোশাকের মধ্যে থ্রি পিস, বোরকা, লেহেঙ্গা, হিজাব, স্কাপসহ, চুরি, কসমেটিকস সহ বিভিন্ন সামগ্রী সব ধরনের কাপড়ই ক্রেতারা কিনছেন।

কেনাকাটায় শাড়ি বেচাকেনা থেমে নেই একদম। বিভিন্ন ধরনের শাড়ি কিনছেন ক্রেতারা।

নরসিংদীর সবচাইতে বড় শপিংমল ইনডেক্স প্লাজায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেনাকাটা করতে কেউ আসছেন একা আবার অনেকেই আসছেন পরিবার নিয়ে আবার বন্ধু বান্ধবী মিলে দল বেধে কেনাকাটা করতে আসছেন অনেকে।

বিভিন্ন দোকানে এবার আগের তুলনায় ক্রেতা সমাগম অনেক বেশী। সব দামের মুল্যের পোশাক পাওয়া যায় বলে ধনী, গরীব সকল শ্রেণী পেশার ক্রেতারাই এই শপিং মলে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। 

এই মার্কেটের স্বপ্ন বাংলা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী আনিস আফজাল সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, আলহামদুলিল্লাহ শেষ সময়ে এসে ক্রেতা সমাগম অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন ই ভাল পরিমান বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন আয়ের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে দামী, একটু কম দামী সব ধরনের পোশাক ই এবার তুলেছি। প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাকের কালেকশন ঢাকা থেকে আনা হয়। তাই এবার ঈদের বিক্রি ইনশাআল্লাহ আরও ভাল হবে বলে আশাবাদী। 

নতুন শপিংমল জামান নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, মলটি নতুন হলেও বিপনিবিতান গুলো ঈদকে সামনে রেখে বাহারি ডিজাইনের পোশাক ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাজিয়েছেন খুব সুন্দর ভাবে।

ক্রেতাদের সমাগম ও অনেক বেশী। নতুন মার্কেটে ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর খুঁজছেন তাদের পছন্দের জিনিস গুলো।

এই শপিং কমপ্লেক্সের দুইটি বিপণিবিতানের বিক্রয়কর্মী আমজাদ হোসেন, রনি ভূইয়া জানান, বেশীরভাগ ক্রেতা ই তৈরি পোশাক ব্যবহার করে থাকেন।

কিন্তু ঈদ সন্নিকটে হাতে সময় নেই তাই গার্মেন্টেসের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের ও ভাল কোয়ালিটির পোশাক দিয়েই সাজানো হয়েছে এই মার্কেটের বিভিন্ন দোকান গুলো। এ কারণে রেডিমেড পোশাকের দোকানগুলোয় এই মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে বেচা-বিক্রি।

এবার মেয়েদের পছন্দে বাদ যায়নি বাহারি ডিজাইনের শাড়ি এবং ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট। পাশাপাশি দেশীয় কাপড়ের কদরও রয়েছে বেশ।

মেয়েদের পোশাকের জন্য বিখ্যাত শহরের বড় বাজারে অবস্থিত কালি বাজার মার্কেট সহ বিভিন্ন বিপনি-বিতান গুলো। এখানে শাড়ি, থ্রী পিস, বিভিন্ন জামা ও গজ কাপড় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা।

দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের নারীদের দেখা যায় পোশাক কিনায় ব্যস্ত, কেউ পছন্দের পোশাক খুঁজছেন, কেউ দাম দর করায় ব্যস্ত, অনেকে পছন্দের পোশাক কিনে বাড়ি ফিরছেন। 

কেনাকাটা করতে আসা সামিয়া, রিয়া, মুনতাহা সহ কয়েকজন সময়ের কণ্ঠস্বর কে জানান, রোজার ক্লান্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঈদের পোশাক নিয়ে ঘরে ফেরার একটি অন্যরকম আনন্দ আছে। এবারের ঈদে নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাকের সমাহার রয়েছে এই মার্কেটে।

তাই নারীরা এই মার্কেটে কাপড় কিনতে ভীড় করে বেশী। প্রতিবারের মত এবার ও ঈদ কে সামনে রেখে সবাই ফ্যাশনের মধ্যে নতুনত্ব খুঁজছে। ইন্ডিয়ান ও দেশে তৈরী ভাল মানের শাড়ি ও থ্রী পিস পাওয়া যায় এখানের বিপণিবিতানগুলোতে।

এইবার পাকিস্তানি অনেক কালেকশন পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনেকেই শাড়ি কিনছেন। দাম ও মানের ক্ষেত্রে এখানে কেনাকাটায় প্রশান্তি পাওয়া যায়। তবে গত বছরের চেয়ে এবার কাপড়ের দাম একটু বেশী। 

এদিকে শহরের সিএনবি রোডের ফুটপাতের দোকান ও ছোট ছোট কাপড়ের দোকান গুলোতে কেনাকাটা করতে দেখা যায় নিম্ন আয়ের মানুষজনের। নিম্ন আয়ের মানুষেরা তাদের সীমিত আয়ের মধ্যে সাধ্যমত কেনাকাটা করে পরিবার পরিজনের জন্য ঈদ আনন্দ বাড়ানোর চেস্টায় ব্যস্ত।

এসব মার্কেট গুলোতে ও ক্রেতাদের ভীড় লক্ষনীয়। এসব মার্কেটের বিক্রেতারা নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে সাশ্রয়ী দামে বাহারি ডিজাইনের পোশাক দিয়ে সাজিয়েছেন তাদের দোকান।

এছাড়াও শহরের জামান শপিং কমপ্লেক্স, ইসলাম প্লজা, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত নরসিংদী প্লাজা, স্টেশন মার্কেট সহ সবগুলো শপিং মলেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়।

বিভিন্ন ব্রান্ডের শো-রুম যেমন ইজি ফ্যাশন, বন্ড, রিচম্যান, দর্জিবাড়ি, বার্গো, সেইলর সহ প্রতিটি শো-রুমেই কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বিক্রি। ঈদ কেনাকাটায় যেন নতুন রঙ লেগেছে প্রতিটি বিপণিবতানে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।