রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পটুয়াখালীতে বাণিজ্যিকভাবে আগাম জাতের তরমুজের বাম্পার ফলন

বর্তমান মৌসুমের রসালো ও মিষ্টি ফলের মধ্যে পরিচিত একটি ফল তরমুজ। বাণিজ্যিকভাবে লাভবানের লক্ষে আগাম জাতের তরমুজের আবাদ করে বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন পটুয়াখালীর কৃষকরা। রমজানকে কেন্দ্র করে বাড়তি করার জন্য কৃষক ন্যায্য মূল্যে বিক্রির প্রত্যাশায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছেন। নদী, খাল আর অধিক চর নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী জেলা। উপকূল বেষ্টিত এ জেলাটি তরমুজ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৪ মার্চ ২০২৫, ২৩:২০

বর্তমান মৌসুমের রসালো ও মিষ্টি ফলের মধ্যে পরিচিত একটি ফল তরমুজ। বাণিজ্যিকভাবে লাভবানের লক্ষে আগাম জাতের তরমুজের আবাদ করে বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন পটুয়াখালীর কৃষকরা। রমজানকে কেন্দ্র করে বাড়তি করার জন্য কৃষক ন্যায্য মূল্যে বিক্রির প্রত্যাশায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছেন।

নদী, খাল আর অধিক চর নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী জেলা। উপকূল বেষ্টিত এ জেলাটি তরমুজ চাষের জন্যে এক উর্বর এবং উপযুক্ত স্থল। তাই তরমুজের শহর হিসেবে দিন দিন পরিচিতি লাভ করে চলেছে পটুয়াখালী। উপযুক্ত স্থান ও অধিক ফলন হওয়ায় প্রতিনিয়ত তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন এ জেলার কৃষকরা। জেলার নৌ ও স্থল পথে বিক্রয়ের জন্য তরমুজ নিয়ে কৃষক ছুটছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

গ্রেট ওয়ান, বিগ ফ্যামেলি, আনন্দ, আনন্দ সুপার, সুইট ফ্যামিলি, লাকী ড্রাগন, এশিয়ান-৩ ও ড্রাগন জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে এ জেলায়। চরাঞ্চলে তরমুজের ক্ষেতে রোদকে উপেক্ষা করে কৃষক তরমুজের আগাছা ও পোকা দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাংলাদশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফরিয়ারা এসে ছুটছেন তরমুজ চাষীদের ক্ষেতে।

একটু বেশি লাভের আশায় গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকরা আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। অনেক তরমুজ চাষিরা রমজানের প্রথম থেকেই তাদের উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি শুরু করেছেন। তাই বাজারে তরমুজ তুলতে অনেকেই এখন ব্যস্ত হয়ে পরেছে। গলাচিপার সবচেয়ে বড় তরমুজ ঘাট আমখোলা মুশুরীকাঠির ঘাটটি।

জেলার অধিকাংশ তরমুজ সরবরাহের লক্ষে আমখোলা থেকে হরিদেপুর পর্যন্ত করা হয়েছে সাতটি ঘাট। গলাচিপার বিভিন্ন চর থেকে তরমুজ চাষী ব্যাপারীরা ট্রলারে করে তরমুজ নিয়ে আসেন ঘাটগুলোতে। মুশুরিকাঠি থেকে ট্রাকের আকারের উপর ভাড়া নিধারিত হয় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। প্রায় ১০০০ থেকে ১৩০০ মৌসুমি শ্রমিক দিন রাত কাজ করেন এই ঘাটে।

ট্রলার থেকে ট্রাকে তরমুজ সাজাচ্ছে শ্রমিকরা। তরমুজ ঘাটকে কেন্দ্র করে মৌসুমি দোকানও জমে উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় শতশত তরমুজের ট্রাক যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। এছাড়া মুশুরিকাঠি থেকে হরিদেপুর ঘাটেও লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি ট্রাক। এর ফলে যানজটে পরতে হচ্ছে এম্বুলেন্স সহ যাত্রী সাধারণদের। 

গলাচিপা উপকূলের চরের তরমুজ চাষি মোঃ খোকন (৪৭) জানান, পাঁচ (০৫) বছর তরমুজ চাষ করে আসছেন। এখন পর্যন্ত তার কোনো লস হয়নি। এ বছরও তিনি ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে তার ৮৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন এ বছর দাম ভালো পাওয়া গেলে প্রতি বিঘা জমিতে দের থেকে দুই লক্ষ টাকা বিক্রি হবে। বিগ ফ্যামিলি, সুইট ফ্যামিলি, লাকী ড্রাগন, এশিয়ান-৩ ও ড্রাগন জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে।

কৃষক জহিরুল ইসলাম(৫৫) বলেন, সাত (০৭) বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। সার ঔষধ ঠিক মত পাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হলেও এক অজানা রোগের কারনে গাছগুলো মরে গিয়ে ফল নষ্ট হয়েছে এবং এমটা এখানে শুধু আমার জমির তরমুজেই হয়েছে। 

কৃষক কামাল হোসেন (৩৬) জানান, আমি আগাম জাতের তরমুজ চাষ করিনি কারন একটু দেরিতে বিক্রি করলে ভালো দাম পাবো। তবে স্যার কীটনাশক দাম একটু বেশি। কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে ন্যায্য মুল্য এ বছর সার কীটনাশক পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফুল প্রজনন করতে হয়নি। এটা একটা ভালো দিক আর যারা বর্ষায় জমিতে একটি চাষ দিয়ে রাখছেন তাদের ফসল ভালো হয়েছে রোগ বালাই কম। 

কৃষক বেল্লাল প্যাদা(৩০) বলেন, কৃষি বিভাগের লোকজন তরমুজ চাষীদের কাছে কম আসে ডাকলে আসে। এসে ঔষধ লিখে দিয়ে চলে জায়। এর বেশি তারা খোজ রাখেন না।

রাঙ্গাবালী ছোটবাইশদিয়ার চাষি মোঃ জসিম (৩৫) জানান, আট বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে ২৭০০ পিছ তরমুজ কেটেছেন। ভালো দাম পাবার আশায় ঢাকা নিয়ে যাচ্ছেন। 

একজন ব্যাপারী রাজু আহম্মেদ (৪৮) বলেন, ঢাকা থেকে তরমুজ কিনতে চর কাজলে এসেছেন। ক্ষেত থাকে ঢাকা পর্যন্ত তরমুজ প্রতি খরচ হয় ৩২-৩৫ টাকা। আগাম জাতের তরমুজ বেশি আশায় বাজার একটু কমে গেছে। তবে এই তরমুজের জেলায় কোথাও কোনো চাঁদা দিতে হয়নি। এটাই তার কাছে ভালো লাগার বিষয়।

ঘাট পরিচালক মোঃ নাসির গাজী বলেন, প্রতিদিন এখানে প্রায় ১০০০-১৩০০ শ্রমিক কাজ করেন। প্রতি দিন বিভিন্ন চর থেকে তরমুজ নিয়ে চাষী ব্যাপারীরা এখানে আসে ট্রলারে করে। ট্রলার থেকে ট্রাকে তরমুজ ভরে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাট-বাজার মোকামে চলে যায়।

ট্রলারের মাঝী কাশেম খা জানান, তরমুজ নিয়ে আসছেন চর বিশ্বাস থেকে তিনি খুবই ব্যস্ত, তরমুজ নামিয়ে দিয়ে আবার ছুটবেন অন্য তরমুজ চাষী তাকে ফোনে তাড়া দিচ্ছে। একটুও সময় নেই তার কথা বলার। 

ট্রাক এর এজেন্সির একজন মনু জোমাদ্দার (৫৬) বলেন, কিছু ঝিগাইবেন আমাগো কথা নিবেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় এখানের সাতটি (০৭) ঘাটে প্রতিদিন কত ট্টাক তরমুজ লোড হচ্ছে। তিনি জানান প্রায় ৩৮০-৪৫০ ট্রাক তরমুজ শুধু এখান থেকেই যাচ্ছে। পুরো জেলা থেকে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ তরমুজ এর ট্রাক যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। 

ভাসমান মৌসুমি দোকান মোসামাৎ আকলিমা বেগম (৩৬) বলেন, ছেলে স্বামী নিয়ে ভাতের হোটেল খুলে বসেছি বিক্রিও ভালো। প্রতিদিন ২০-২৫ কেজি চালের ভাত বিক্রি হচ্ছে। এরকম কোহিনুর (৪০) সেফালি (৪৩) সবারই ভাতের হোটেল, চায়ের দোকান থেকে হরেক রকমের দোকান নিয়ে বসেছেন এই ঘাট গুলোতে। ঘাট থেকে হাট কয়েক হাজার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এই তরমুজের মৌসুমে।

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, উপপরিচালক, জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, গত বছর ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে তবে চলতি বছর ২৮হাজার ৫০০হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে যা গত বছর এর তুলনায় ৫ হাজার হেক্টর বেশি। কৃষক গ্রেট ওয়ান, বিগ ফ্যামেলি, আনন্দ, আনন্দ সুপার জাতের তরমুজ বেশি চাষ করেছেন। বর্তমান তরমুজ কর্তন চলছে। চাষি যথাসময়ে স্যার কীটনাশক পেয়েছেন ফলন ভালো জলবায়ুও ভালো।

গত বছর (০২) হাজার কোটি টাকা হয়েছে এবছর (০৩) হাজার কোটি টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় মোবাইল টিমের মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। যাতে কৃষক দালাল পাইকারের প্রতারণার শিকার না হয়। জেলা পুলিশ সুপার মহদোয় পুরো জেলার কোথাও কোনো বাঁধা বা চাষি হয়রানি না হয় সে ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। তরমুজ একটি লাভ জনক ফসল এখানে বিনিয়োগ একটু বেশি করতে হয় তবে লাভও ভালো। 

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও গাছে রোগবালাই আক্রমণ কম হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে তরমুজ চাষিরা।

 তরমুজ চাষে বেশি বিনিয়োগ করতে পারলে লাভের পরিমানও বেশি থাকে। তাই সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংক থেকে অর্থের যোগান পেলে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষ করতে পারতো এমনটাই জানিয়েছেন এ উপকূলের কৃষকগণ।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।