সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে: সামান্তা

মোঃ তানসেন আবেদীন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টায় নগরীর আলী আহম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রুপন্তী আজমলের সঞ্চালনায় এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নারী বিষয়ক সেলের সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে […]

নিউজ ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ২১:৫১

মোঃ তানসেন আবেদীন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টায় নগরীর আলী আহম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রুপন্তী আজমলের সঞ্চালনায় এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নারী বিষয়ক সেলের সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন তার বক্তব্যে বলেন, “শেখ হাসিনা নারী নেতৃত্বের নামে নারীদের পিছিয়ে রাখার অপকৌশল নিয়েছে। সংরক্ষিত আসনের নামে নারী নেতৃত্ব তৈরিতে বাধা দিয়েছে এবং দলীয় প্রয়োজনে কিছু নারীকে শুধু দেখানোর জন্য সামনে এনেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ শুধু পুরুষদের ওপর দমন-পীড়ন চালায়নি, নারীদেরও এই দমননীতির শিকার হতে হয়েছে। যেসব পুরুষ আন্দোলনে ছিল, তাদের পরিবারের নারীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই দমননীতির বিচার আমাদের চাইতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিচার করতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “উপদেষ্টা পরিষদে পর্যাপ্ত নারীর উপস্থিতি নেই। কিভাবে নারীদের এই সেক্টরে যুক্ত করতে হবে, সেটি আমাদেরই বের করতে হবে। আমরা শুধু বিচার চাইছি না, বরং সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হতে পারে না। গণপরিষদ নির্বাচন অবশ্যই আগে হতে হবে এবং সংবিধান পুনরায় লিখতে হবে।”

সামান্তা শারমিন আরও বলেন, “ক্যাম্পাসে নতুন রাজনীতি গড়ে উঠছে। আমরা চাই নারীরা এখানে সক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করুক। নতুন রাজনৈতিক দলে নারীদের অবস্থান রাখতে হবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। তারা কোটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলেছে, ‘আমাদের কোটা প্রয়োজন নেই, মেধার ভিত্তিতে বণ্টন নিশ্চিত করুন।’ তারা আওয়ামী লীগের বয়ান ভেঙে হল থেকে বেরিয়ে এসে প্রমাণ করেছে যে, তারা নিজেদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নারীরা ভালো-মন্দের বোধ বেশি রাখেন, কারণ তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা দিতে হয়। নারী ও পুরুষের ভোট সমান ক্ষমতা বহন করে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নতুন রাজনৈতিক দলে জনমত সংগ্রহের সময় নারীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমরা চাই, বিচার ও সংস্কারের দাবি অব্যাহত থাকুক। একজন নারী যখন বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার বিচার চাই’, তখন সেটি অনেক বেশি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।”

জাতীয় নাগরিক কমিটির নারী বিষয়ক সেলের সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনা বলেন, “আমরা মেয়েরা সকল কিছুর বিচার চাই। আন্দোলনের সময় আমরা সম্মুখ সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছি। আমরা চাই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে যাতে নারীরা কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়। আমরা নারীদের বিচরণের ক্ষেত্র তৈরি করে দেবো সংস্কার ও দেশ গঠনের মাধ্যমে।”

জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য নাহিদা সারোয়ার নিভা বলেন, “একটি রাষ্ট্রের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে কখনো উন্নতি করা সম্ভব নয়। নারীদের বোঝানো হয় যে, তারা কিছু করতে পারবে না, কিন্তু আমরা বলতে চাই, নারীদের নিয়েও পরিবর্তন সম্ভব। আমরা নারীদের রাজনৈতিক সক্ষমতা দেখিয়ে দিতে চাই।”

সমাবেশে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

আন্দোলনে দুই চোখ হারানো শিক্ষার্থী মাহবুবের মা বলেন, “আমার ছেলে আন্দোলনে গিয়ে দুটি চোখ হারিয়েছে। এখন সে ঘরে বন্দি। আমাদের পুরো পরিবার এখন অন্ধকারে। আমরা দোষীদের বিচার চাই, শেখ হাসিনার বিচার চাই।”

আড়াইহাজারের ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক মুনিয়া ইসলাম বলেন, “দেশ গড়ার জন্য আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম। এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করা।”

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, সংস্কৃতি সেলের সম্পাদক তাজনুভা জাবীন, শহীদ ও আহত সেলের সম্পাদক ডা. মাহমুদা মিতু, কেন্দ্রীয় সদস্য নাহিদা সারোয়ার নিভা।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আল-আমিন, কেন্দ্রীয় সদস্য শওকত আলী নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আহ্বায়ক কমিটির সংগঠক আহমেদুর রহমান তনু, লুবনা রহমান, নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের নারী সদস্যরা।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।