রাজধানী দামেস্ক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শামস (এইচটিএস)-এর নিয়ন্ত্রণে যেতে শুরু করেছে। এর মধ্যেই খবর আসে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সপরিবারে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ঘটনাগুলো এত দ্রুত ঘটেছে যে সিরিয়ার জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। এএফপির সঙ্গে কথা বলেছেন আসাদ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা, যারা বাশারের শাসনের শেষ মুহূর্তের ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন।
তাদের মতে, বাশার আল-আসাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত খুব গোপন ছিল। পালানোর আগের রাতে তিনি উপদেষ্টা বুসাইনা শাবানকে একটি ভাষণ প্রস্তুত করতে বলেন, যা শেষ পর্যন্ত প্রচারিত হয়নি। পরে তিনি দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে রাশিয়ার হেমেইমিম বিমানঘাঁটিতে যান এবং সেখান থেকে মস্কোতে পাড়ি জমান।
এক সাবেক সহকারী জানান, বাশার তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরও কিছু জানায়নি। রাশিয়ার ঘাঁটি থেকে মস্কোতে পাঠানো একটি বিমানে তিনি দেশ ছাড়েন।
অন্যদিকে, সিরীয় সেনাবাহিনীর চতুর্থ ব্রিগেডের নেতৃত্বে থাকা বাশারের ভাই মাহের দামেস্ক রক্ষায় সৈন্যদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। বাশারের পালানোর খবর পেয়ে তিনি একটি হেলিকপ্টারে বাগদাদে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রাসাদের এক কর্মকর্তার বর্ণনায়, শনিবার সকালে বাশারের একটি ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও পরে জানা যায়, ভাষণটি বাতিল করা হয়েছে। এরই মধ্যে সিরীয় সেনাবাহিনী তাদের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে ধ্বংস করতে শুরু করে, যা শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেরই জানা ছিল না।
আসাদের ঘনিষ্ঠ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে বুসাইনা শাবানকে প্রেসিডেন্ট ফোন করে একটি ভাষণ প্রস্তুত করতে বলেন এবং এটি রাজনৈতিক কমিটির সামনে উপস্থাপন করতে বলেন। রোববার সকালে বৈঠক করবেন বলেও জানান। রাত ১০টায় তিনি প্রেসিডেন্টকে আবার ফোন করেন, কিন্তু প্রেসিডেন্ট আর ফোন ধরেননি।
সে সন্ধ্যায় আসাদের মিডিয়া পরিচালক কামেল সাকর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট শিগগিরই একটি বিবৃতি দেবেন। কিন্তু এরপর সাকরও আর ফোন ধরেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-রাহমুনকেও ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রাসাদের এক কর্মকর্তা বলেন, তিনি রোববার রাত আড়াইটা পর্যন্ত তাঁর অফিসে ছিলেন। এর চার ঘণ্টার মধ্যে, বিদ্রোহীরা ঘোষণা করে যে আসাদ পালিয়ে গেছেন।
সে সময়ের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমরা যেকোনো মুহূর্তে আসাদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি বা বার্তা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমরা কখনোই এমন একটি পরিস্থিতি কল্পনা করতে পারিনি। আমরা এমনকি জানতাম না প্রেসিডেন্ট এখনো প্রাসাদে আছেন কি না।’
তিনি আরও বলেন, শনিবার রাত প্রায় ১২টার দিকে, প্রাসাদের কর্মকর্তাদের বলা হয়, প্রেসিডেন্টের সকালে একজন ক্যামেরাম্যান প্রয়োজন। পরে বুঝতে পারলাম, এটি বলা হয়েছিল আমাদের আশ্বস্ত করার জন্য যে তিনি এখনো সেখানে আছেন। কিন্তু রাত ২টার কিছু আগে, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফোন করে জানান, সব সরকারি কর্মকর্তা এবং বাহিনী তাঁদের অফিস ও অবস্থান ছেড়ে চলে গেছেন।
প্রাসাদের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। অফিসে তখন শুধুই আমরা দুজন ছিলাম। প্রাসাদ প্রায় ফাঁকা ছিল। আমরা সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘পরে ভোর আড়াইটার দিকে আমিও প্রাসাদ ছেড়ে যাই। সেখান শহরের কেন্দ্রস্থলে উমাইয়া স্কয়ারে পৌঁছে আমি হাজার হাজার সৈন্যকে দেখতে পাই। অনেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। যানবাহন খুঁজছিল। তাদের কাছে জানলাম, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি ভয়ংকর দৃশ্য ছিল। গাড়িতে করে, হেঁটে দামেস্ক ছাড়ছিল মানুষ।’
প্রাসাদের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সেই মুহূর্তেই আমি বুঝতে পারলাম, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। দামেস্কের পতন হয়েছে।’
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?