রাশিমুল হক রিমন, নিজস্ব প্রতিবেদক
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।
গত ২৯ অক্টোবর বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও সদস্য সচিব এসএম হুমায়ুন হাসান শাহীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁর প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সোমবার চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তালতলী উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী ও মোস্তাকের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক
মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে লালন-পালনের অভিযোগ তুলে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেন। তাঁর ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তালতলী উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় মোস্তাকের পক্ষ নিয়ে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের একাংশ অবস্থান নেয়। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম মোল্লার পক্ষ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল হক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহবুবুল আলম মামুনের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের আরেকাংশ অবস্থান নেয়। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার পর বরগুনা জেলা বিএনপি মোস্তাককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৯ অক্টোবর তাঁর প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও সদস্য সচিব এসএম হুমায়ুন হাসান শাহীন তালতলীতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করে আসছেন।
এর প্রতিবাদ করায় তাঁকে অন্যায়ভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ওই নোটিশের জবাবও দিয়েছেন। এরপরও তাঁর দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলা বিএনপির দেওয়া চিঠি তিনি হাতে পাননি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠিটি দেখেছেন।
বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নেতাদের বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মোস্তাককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নোটিশের জবাব দেননি। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁর দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।