মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আইনের তোয়াক্কা নেই, গুরুদাসপুরে ছাড়পত্র ছাড়াই জ্বলছে ইটভাটার চুল্লি

১১টি ভাটার মধ্যে দুটির লাইসেন্স আছে, বাকি ৯টির নেই; ২০২৪ সালে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা, তবু চলছে ইট পোড়ানো আইন আছে, অভিযানও হয়। অভিযানে জরিমানার মুখেও পড়তে হয় ইটভাটার মালিকদের। কিন্তু তাতেও বন্ধ হচ্ছে না ইট পোড়ানো। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ১১টি ইটভাটা। এর মধ্যে দুটির লাইসেন্স থাকলেও বাকি ৯টির লাইসেন্সও […]

আইনের তোয়াক্কা নেই, গুরুদাসপুরে ছাড়পত্র ছাড়াই জ্বলছে ইটভাটার চুল্লি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:২৫

১১টি ভাটার মধ্যে দুটির লাইসেন্স আছে, বাকি ৯টির নেই; ২০২৪ সালে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা, তবু চলছে ইট পোড়ানো

আইন আছে, অভিযানও হয়। অভিযানে জরিমানার মুখেও পড়তে হয় ইটভাটার মালিকদের। কিন্তু তাতেও বন্ধ হচ্ছে না ইট পোড়ানো। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ১১টি ইটভাটা। এর মধ্যে দুটির লাইসেন্স থাকলেও বাকি ৯টির লাইসেন্সও নেই।

আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে এসব ভাটার ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি, বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি। অন্যদিকে ইট ও মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের চাপে ভাঙছে পাকা সড়ক। বারবার অভিযান ও জরিমানার পরও ভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, গুরুদাসপুর উপজেলায় মোট ১১টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ভাটার লাইসেন্স থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ওই দুটি ভাটার ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাকি ৯টি ইটভাটার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র—কোনোটিই নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইটভাটার চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া আশপাশের বসতবাড়ি ও জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বায়ুদূষণের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভাটার কাছাকাছি থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষও দূষণের প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। ধোঁয়ার কারণে আশপাশের ফসলি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

পরিবেশদূষণের পাশাপাশি কৃষিজমির মাটি ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিন ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এ ছাড়া ইট ও মাটি বহনকারী ট্রাক্টর-ট্রলির অবাধ চলাচলে উপজেলার বিভিন্ন পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যায় না। একই সঙ্গে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার এবং কৃষিজমি, পুকুর, নদী, খাল ও জলাভূমি থেকে মাটি সংগ্রহ করে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পুকুর খননের কারণে গুরুদাসপুরে ১২০ হেক্টর তিন ফসলি জমির পরিমাণ কমেছে। এসব জমিতে ধান, পাট, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজির আবাদ হতো। জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় ধানের উৎপাদন প্রায় ১০০ টন হ্রাস পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইটভাটার জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের অভিযোগ কৃষি উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানেও কার্যক্রম বন্ধে স্থায়ী ফল আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সর্বশেষ ২০২৪ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত এক অভিযানে উপজেলার অনুমোদনহীন ৯টি ইটভাটাকে মোট ২৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে জরিমানার পরও ভাটাগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই আবার শুরু হয় ইট পোড়ানো। ফলে জরিমানা করেও অবৈধ ভাটার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইটভাটার মধ্যে পাঁচটি রয়েছে পৌর এলাকার আবাসিক অঞ্চলে। এগুলো হলো চাঁচকৈড়ের মোশাররফ হোসেনের মেসার্স এমবিপি ব্রিকস, আব্দুস সালাম সবুজের মেসার্স একেবি ব্রিকস, জহুরুল সোনারের মেসার্স এমডিআর ব্রিকস, জাহাঙ্গীর সোনারের মেসার্স এমডিএস ব্রিকস এবং আমজাদ-মফিজের মেসার্স এএমবি ব্রিকস।

এ ছাড়া সাহাপুরে রয়েছে আজাহার প্রামাণিকের মেসার্স এইচবিবি ব্রিকস, আজাহার বালুর মেসার্স এইচআরবি ব্রিকস, কাদের হাজীর মেসার্স এইচকেবি ব্রিকস ও মজনু সরদারের মেসার্স এমএসবি ব্রিকস। হাজীর হাটে জাহিদুল ইসলামের মেসার্স এমডিপি ব্রিকস এবং চন্দ্রপুরে রেজাউল হাসান রানার মেসার্স আরআরবি ব্রিকস অবস্থিত।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা, জবতুল্লাহ মণ্ডল, জাহের প্রামাণিক, সুজাউদ্দৌলা সুজন, কৃষক রফিকুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর ইটভাটাগুলোতে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না। কিছুদিন পর আবারও শুরু হয় ইট উৎপাদন। তাঁদের অভিযোগ, জরিমানা দিয়েই ভাটামালিকেরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অবৈধ ভাটাগুলোর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে তাঁরা কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।

উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘১১টি ইটভাটার মধ্যে দুটির লাইসেন্স রয়েছে। তবে কোনো ভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে মুঠোফোনে বক্তব্য না দিয়ে সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে লাইসেন্স থাকা মেসার্স আরআরবি ব্রিকসের মালিক রেজাউল হাসান রানা ও মেসার্স এমডিপি ব্রিকসের মালিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনে ইটভাটা পরিচালনা করছেন। তাঁদের লাইসেন্স রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি, বাকি ৯টি ইটভাটার কোনো অনুমোদন নেই।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘ইটভাটা পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট আইন রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সারাদেশ

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান। কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক […]

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান।

কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি তিনি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছেন। আকস্মিক এই ঝড়ে তার সব আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।

কৃষকদের কাছে কলাগাছের মাজা ভেঙে যাওয়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাদের পরিবারের স্বপ্ন ও জীবিকার হিসাব। আকস্মিক এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এখন ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা।