মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বসানোর জন্য বিএনপি আগে থেকেই পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জে এনসিপির ঢাকা উত্তর অঞ্চলের সাংগঠনিক সমন্বয় সভার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে বিএনপি অতীতেও ষড়যন্ত্র করেছে। ২০০৬ সালে নিজেদের পছন্দের লোককে ওই পদে বসানোর চেষ্টা করেও দলটি সফল হয়নি। বর্তমানে আবারও একই ধরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, বিএনপিকে এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে র্যাঙ্ক চয়েস সিস্টেমের ভিত্তিতে একটি ফর্মুলা বাস্তবায়নের প্রস্তাবও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দল ও সরকারের সমালোচনাকারী সাধারণ মানুষ সারাদেশে দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। তাঁর দাবি, গত কয়েক মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের কারণে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ায় এক নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপিকে ‘নতুন স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দলটিকে শুরুতেই প্রতিরোধ করা না গেলে এর পরিণতি জনগণকে ভোগ করতে হবে। আওয়ামী লীগের অতীত শাসনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর দলটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি বলেই তারা দীর্ঘ সময় একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিল বলে তাঁর অভিযোগ।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর ভাষ্য, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারসাজি মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের পরিকল্পনা থাকলে বিএনপি পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
সমন্বয় সভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং ঢাকা বিভাগ (উত্তর) সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।