ছয় দেশের ১২ জন বিদেশি নাগরিকসহ দেশ-বিদেশের হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে নীলফামারীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। ধর্মীয় বয়ান, ইবাদত-বন্দেগি ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সদর উপজেলার দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস কলোনি মাঠে এ ইজতেমা শুরু হয়। আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আয়োজন।
ইজতেমায় অংশ নেওয়া ১২ জন বিদেশি নাগরিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সুদান ও সৌদি আরবের বাসিন্দা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও আশপাশের উপজেলা থেকে হাজারো মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ তাবলিগ জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা মুনির বিন ইউসুফসহ ঢাকা থেকে আসা ধর্মীয় ব্যক্তিরাও এতে উপস্থিত রয়েছেন।
আয়োজকরা জানান, ইজতেমায় অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা মাঠে আসতে শুরু করেন। তাঁদের আগাম উপস্থিতির কারণে বুধবার সন্ধ্যায় আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাঠে মুসল্লিদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ ধর্মীয় আলোচনা শুনতে এবং সম্মিলিতভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে অংশ নিতে মাঠে সমবেত হন।
ইজতেমায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ধর্মীয় বয়ান, নামাজ, জিকির-আজকার, দোয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এসব আলোচনায় ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, মানবকল্যাণ, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ, দ্বীনের দাওয়াত এবং পরকালীন জীবনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
আয়োজক কমিটির উত্তরবঙ্গের সভাপতি প্রভাষক দিদারুল ইসলাম বলেন, “ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে জানানো, আত্মশুদ্ধির চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরা। আমরা চাই, এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হোক। ইজতেমা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
এদিকে ইজতেমাকে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ইজতেমা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, ডিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ইজতেমা মাঠে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। এ জন্য ১৮৪ জন পুলিশ সদস্যকে দুটি সেক্টরে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হবে।
ইজতেমার শেষ দিনে মুসল্লিদের উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা। এ কারণে মুসল্লিদের যাতায়াত, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে আখেরি মোনাজাতের আগে ও পরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে নীলফামারীর এবারের জেলা ইজতেমা।