জামায়াতে ইসলামীর নৈতিক সাহস থাকলে গোপালগঞ্জে পথসভা করে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহাসিক পুরাতন ডিসি কোর্ট মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াতের লংমার্চের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি দাবি করে, তারা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। অথচ তাদের লংমার্চের কর্মসূচিতে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখা হয়নি, এমনকি সেখানে বিরতিরও পরিকল্পনা নেই। এ কারণে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, জামায়াত এখনো আওয়ামী লীগকে ভয় পায় কি না।
তিনি বলেন, নৈতিক সাহস থাকলে জামায়াতের উচিত গোপালগঞ্জে গিয়ে পথসভা করে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণ করা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আগের গোপালগঞ্জমুখী লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, ওই কর্মসূচিতে হামলার পর সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করেছিল। তাহলে জামায়াত কেন গোপালগঞ্জে যাচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
খুলনা বিভাগকে অতীতে একটি বিশেষ দলের ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, সময় বদলেছে। খুলনার মানুষ কোনো ধরনের অপকৌশল মেনে নেবে না। আগামী ৩১ অক্টোবরের কর্মসূচিতেও জামায়াত প্রত্যাখ্যাত হবে বলে দাবি করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতের পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটির ‘জান্নাতে যাওয়ার টিকিট’ এখন আর কাজে আসছে না। ওই নির্বাচন ঘিরে জামায়াত ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসনটিকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটারবিহীন নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়ী হয়েছিলেন।
এ সময় বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ওই মৃত্যুর ঘটনায় আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট মহলে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে বলে তার মনে হয়েছে। ঘটনাটির গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আলাপকালে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।