নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, নির্বাচন হলে দেশের সব পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু নির্বাচনের নয় মাস পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ দেশের সার্বিক অবস্থার উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, দেশের এই ব্যর্থতার দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই নিতে হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্যাসের দামের তুলনা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, কলকাতায় এক হাজার টাকায় গ্যাস পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে একই গ্যাস কিনতে হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। কলকাতায় ইরান যুদ্ধের প্রভাব না পড়লে বাংলাদেশে কেন এত বেশি দাম দিতে হচ্ছে, সেই জবাব জ্বালানিমন্ত্রীকে দিতে হবে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটের আগে ও পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে দেখা গেছে। অথচ সরকার দাবি করছে, বাজেটের সময় কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বাস্তবে প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়তির দিকে।
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির সদস্যসচিব। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে মানবাধিকার সুরক্ষায় শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকার উল্টো দুর্বল আইন তৈরি করেছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদাহরণ হিসেবে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, নদী থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফের নাম জড়িত থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
আখতার হোসেনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় উল্লাস প্রকাশের সাহস পাচ্ছেন, কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপি সরকার।
সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন এনসিপির সদস্যসচিব। দাবিগুলো হলো—ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, মানবাধিকারবিরোধী আইন বাতিল এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী পাস না করা।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আখতার হোসেন বলেন, আগামী ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে চুক্তিটি নবায়ন করতে পারবে কি না, সেটিই হবে তারেক রহমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।