মাহিনুর ইসলাম মাহিন, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গণভোটের জনরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বড়লেখা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান আকর্ষণের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবু সাঈদের রংপুরে গিয়ে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার পর আমরা দেখেছি, বিএনপি সরকার গণভোটের জনরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর আমাদের নেতা ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে নির্বাচন মেনে নিয়েছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেবে, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে এবং সারাদেশে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করবে। কিন্তু গত সাত মাসে আমরা দেখেছি, বিএনপি সরকার এই জাতির সঙ্গে এবং জুলাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’
সরকারের সমালোচনা করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘এখনো শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয়নি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিচারেও দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংকট রয়েছে। সাত মাসে তিন দফায় রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে তেলের দাম কমেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে বিএনপি সরকারের সিন্ডিকেট রয়েছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড বিতরণের নামে জনগণকে শোষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ২৭ লাখ বেকারের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। চাকরির ক্ষেত্রে মেধাকে ধ্বংস করাই তাদের পরিকল্পনা। সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা ও অরাজকতার কারণে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ এখন বিএনপি সরকার থেকে মুক্তি চায়।’
সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে অভিযোগ করে আবু সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন ব্যক্তিদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডাকসুর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সফলভাবে এক বছর ডাকসুর দায়িত্ব পালন করেছি। ক্ষমতার চেয়ারে বসে থাকতে চাই না। বাংলাদেশে একটি নজির স্থাপন করেছি। তবে আমরা আশঙ্কা করছি, বিএনপি সরকার ৯০-পরবর্তী সময়ে যেভাবে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংসদের নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছিল, একই কায়দায় আবার ডাকসুসহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে।’
‘জুলাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি’
একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ের সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও কাঠামোগত কোনো সংস্কার আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তারা চায় না তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হোক। নিজেদের মতো করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন নাটক সাজিয়ে দ্বিতীয় নির্বাচন করে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্ত করতে তারা জুলাই সনদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।’
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগসংক্রান্ত কমিটিতে একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তিকে সদস্য করা হয়েছে। একটি দেশের জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা জাতির জন্য তামাশায় পরিণত হয়। যোগ্যতার কোনো বালাই নেই।’
বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থায় অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় ‘তামাশার সরকার ব্যবস্থা’ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বড়লেখা উপজেলা শাখার সভাপতি নোমান আহমদের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা উত্তর শাখার সভাপতি হানজালা আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মজলিসে শুরা সদস্য এমাদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ফয়সল আহমদ ও আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সুমন, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাছিত, উপজেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি আব্দুল মোহাইমিন, সদর ইউনিয়ন সভাপতি রবিউল ইসলাম সুহেলসহ স্থানীয় নেতারা।