নাটোরের গুরুদাসপুরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের নাম জানা গেছে, তাঁরা হলেন—সাইফুলের পক্ষের সাইদুল (৫৪), রমিজুল (৩৮), রফিক (৪৫), হাকিম (৩৮) ও বাবুলাল (৩৯)। অপর পক্ষের ময়লাল (৫৫), সোহেল রানা (৩০), শরীফা (৪৫), সুলতান (৪০), জাহানারা (৪০) ও ডাবলু (৩৫)। আহত অন্য চারজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং গুরুতর আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্বজনদের দাবি, ময়লালের অবস্থা সংকটাপন্ন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দুই পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি নিয়ে সাইফুল ও ময়লালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মামলাও চলমান রয়েছে।
শনিবার সকালে সড়কসংলগ্ন একটি জায়গায় ময়লাল বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে সাইফুল সেখানে গিয়ে বেড়া দিতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সাইফুল বলেন, মামলা চলমান থাকা জায়গায় ময়লাল লোকজন নিয়ে বেড়া দেওয়ার কাজ করছিলেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় তাঁর ওপর হামলা করা হয়। পরে ময়লালের লোকজন তাঁর বাড়ির দিকে এলে তাঁরা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে আহত ময়লালের ছেলে সোহেল রানা বলেন, মামলায় রায় পাওয়া এবং তাঁদের দখলে থাকা জমিতে তাঁর বাবা বেড়া দেওয়ার কাজ করছিলেন। এ সময় সাইফুল লোকজন নিয়ে তাঁর বাবার ওপর হামলা করেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে সাইফুলের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করে। এতে তিনি ও তাঁর বাবা আহত হন।
এ বিষয়ে বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সুজার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।