সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশু আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আহত শিশুটিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সখীপুর থানা-পুলিশ আকলিমা বেগমকে হেফাজতে নেয়।
নিহত আশরাফুলের বয়স প্রায় সাড়ে ৩ বছর। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে কোনো সন্তান না হওয়ায় পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘরেই আশরাফুলের জন্ম হয়।
তবে আকলিমা বেগম বেশির ভাগ সময় ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। এ কারণে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা লালন-পালন করতেন। শিশুটি নাসিমাকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, আশরাফুল নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।
স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, সন্তান নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমা বেগমের মনে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই ক্ষোভ থেকে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।
তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকলিমা ও শাহীন মিয়ার মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটি পুত্রসন্তান দান করেছিলেন। সেই সন্তানকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছে। এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। শুধু আমার সন্তানই নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাড়ে ৩ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। তার লাশ সেখানেই রয়েছে। নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বার্থে শিশুটির মাকে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।