নোয়াখালী, প্রতিনিধি;
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বদলি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ মার্চ সুবর্ণচরে যোগদানের পর থেকে তার নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, পাঠ্যবই গায়েব, শোকজ বাণিজ্য, শিক্ষকদের হয়রানি, কাজের দীর্ঘসূত্রিতাসহ নানাবিধ কারণে পুরো উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।
এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতা শিক্ষকরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তবুও দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এ কর্মকর্তা।
জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে বিনামূল্যে বিতরণ করার জন্য বছরের শুরুতে পাঠ্যবই সরবরাহ করে সরকার। সুবর্ণচর উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম এসব বই গ্রহণ এবং বিতরণের দায়িত্বে থাকলেও তিনি অন্যান্যদের সহযোগিতায় প্রায় ১২০০০ বই গায়েব করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যথেষ্ট গোপনীয়তা রক্ষা করে চললেও বিষয়টি নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে আসে।
পরে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি চলতি বছরের ২৯ ও ৩০ জুলাই সুবর্ণচরে এসে বিষয়টি তদন্ত করে।
সেবাগ্রহীতা শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান না করে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনেকগুলো অভিযোগ জমা হয় ভুক্তভোগী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে। অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য চলতি বছরের ৩ আগস্ট সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সঞ্চিতা দাশের নেতৃত্বে একটি কমিটি সুবর্ণচর এসে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সাক্ষ্য নেন।
এছাড়া শাহ আলমের বিরুদ্ধে চাকরি স্থায়ীকরণের ফাইলে স্বাক্ষর করার জন্য ঘুষ আদায়, শিক্ষকদের নানা অযুহাতে শোকজ লেটার দিয়ে টাকা আদায়, বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ থেকে টাকা রেখে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এসব কাজে শিক্ষক নেতা নামধারী কয়েকজন শিক্ষক তাকে সহযোগিতা করেন। এসব শিক্ষকরা প্রায়ই নিজেদের বিদ্যালয়ে অবস্থান না করে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কম্পিউটারগুলোতে কাজ করার অজুহাতে শিক্ষা অফিসে অবস্থান করেন।
তাদের দাবি, শিক্ষা অফিসার তাদেরকে কল করে এনেছেন শিক্ষা অফিসের কাজ করার জন্য। আর এসব অপকর্ম করার জন্য চিহ্নিত ৩-৪ জন শিক্ষকসহ শিক্ষা অফিসার শাহ আলম রাত ৯-১০টা পর্যন্ত শিক্ষা অফিসে অবস্থান করেন যাতে ঘুষ লেনদেনের মতো গোপনীয় কাজগুলো অন্যদের নজরে না আসে।
পুরো উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ায় এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হওয়ায় নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার চলতি বছরের ২১ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি প্রতিবেদন পাঠায়। এতে শাহ আলমকে নোয়াখালী জেলার বাইরে বদলি করার আবেদন জানানো হয়।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে যেসব শিক্ষক-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাদেরকে বেতন বন্ধসহ নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন শাহ আলম। ভবিষ্যতে তাদের আরও নানাভাবে হয়রানি করার আতঙ্কে ভুগছেন অনেক সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
ফলে এসব বিষয় আমলে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অবশেষে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলমকে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় বদলি করে।
এ বিষয়ে জানতে শাহ আলমের মোবাইলে কল দিলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য। এটা নিয়মিত বদলির অংশ, এটা কোনো শাস্তিমূলক বদলি নয়।