শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
সরকারি ভাতা বা আর্থিক সহায়তার লোভ দেখিয়ে দিনদুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকেই এক বৃদ্ধার প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন হাতিয়ে নিয়েছে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে এ চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী দুই বোন শেরপুর পৌরসভার উত্তর সাহাপাড়ার মৃত ওবেজ প্রামাণিকের মেয়ে কাজলী বেগম ও রমিছা বেগম। এ ঘটনায় দুপুরে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ ও থানা সূত্রে জানা যায়, সকালে ভোটার আইডি কার্ড (এনআইডি) সংশোধন সংক্রান্ত কাজে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান কাজলী ও রমিছা। কার্যালয়ের সামনে পৌঁছামাত্রই দুই যুবক তাদের পথরোধ করে। নিজেদের একটি স্বনামধন্য দাতব্য সংস্থার প্রতিনিধি দাবি করে তারা জানায়, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ৭ হাজার টাকা করে নগদ অনুদান বিতরণ করা হচ্ছে।
তবে কৌশলে জাল বিছায় প্রতারকরা। অনুদান পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে নিজেদের ‘অসহায়’ প্রমাণ করতে হবে। এমন অজুহাতে গায়ে থাকা স্বর্ণালঙ্কার খুলে রাখার পরামর্শ দেয় তারা। প্রতারকদের মিষ্টি কথায় প্রলুব্ধ হয়ে সরল বিশ্বাসে রমিছা বেগম তার গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইনটি খুলে তাদের হাতে তুলে দেন। এরপর দুই বোনকে কোর্টপাড়া সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে “অফিসারের কাছ থেকে ক্যাশ টাকা নিয়ে আসছি” বলে চম্পট দেয় প্রতারকরা। ঘণ্টা পার হলেও তারা না ফেরায় প্রতারণার বিষয়টি টের পান ভুক্তভোগীরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী কাজলী বেগম বলেন, “আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে টাকা দেওয়ার নামে স্বর্ণের চেইনটি নিয়ে পালিয়ে গেছে। এমন প্রতারক আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মইনুদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা পরিষদ এলাকাটি সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির আওতাভুক্ত। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। খুব দ্রুতই প্রতারক চক্রটিকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”