ধর্ম পালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের বিষয় উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংসদ থেকে কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যায় না।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে মুজিবুর রহমান সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ইমান ও আস্থা পুনঃস্থাপন, নামাজ কায়েম এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের আমল ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদে নামাজের জন্য নির্ধারিত বিরতি যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, অতীতে সংবিধানে আল্লাহর প্রতি ইমান ও আস্থার বিষয়টি ছিল, যা পরে বাতিল করা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান উল্লেখ করে তিনি সংসদে আসর ও মাগরিবের নামাজের জন্য বিরতির বিষয়টিও তুলে ধরেন।
মুজিবুর রহমান বলেন, ক্ষমতার দায়িত্ব পাওয়ার পর মূল কাজ হওয়া উচিত সালাত কায়েম ও যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নামাজ ও যাকাতের বিধান চালুর জন্য স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগে এসব ব্যবস্থা চালু হলে নাগরিকদের চরিত্র গঠনের পাশাপাশি জবাবদিহিও বাড়বে।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্ম পালন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। ইসলাম মানবতার ধর্ম এবং ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে সংসদ সদস্যরা অবগত রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ থেকে কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যায় না।’
তবে মুজিবুর রহমানের বক্তব্যে প্রকাশিত অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, সবাই আল্লাহর বিধান মেনে চলার চেষ্টা করবেন।
পরে নামাজের প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, মসজিদের বাইরেও অনেকে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।
এ পর্যায়ে তার বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে বিষয়টি নতুন বিতর্কে রূপ না দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে রুলিং দেন।