প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ আগ্রহী। তবে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার সিলেট জেলা পরিষদে জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, গত ১৫ বছরে অসংখ্য গুম-খুন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষ হত্যায় অভিযুক্ত ‘পলাতক সন্ত্রাসী’ শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে যেমন কোনো ভারতীয় সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, তেমনি ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো চক্রান্তও মেনে নেওয়া হবে না।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে সরকার।
হুমায়ুন কবির বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত বৈধ সরকার হিসেবে বর্তমান প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে’ পৌঁছেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে শিগগিরই তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহও জানিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সিলেট সফরে এসে হুমায়ুন কবির হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জুমার নামাজ আদায় ও জিয়ারত করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ অন্যরা।
এদিকে জুমার নামাজ শেষে দরগাহ শরিফে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে তারা সাময়িকভাবে সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকেন।
পরে পরিস্থিতি নিরসনে বিএনপি নেতা মিফতাহ্ সিদ্দিকী ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।