নাটোরের গুরুদাসপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় মিলন উদ্দিন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রথম স্ত্রীকে গোপনে তালাক দেওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
গত রোববার গভীর রাতে উপজেলার হাঁসমারী গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সোমবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাবনার চাটমোহরের বাসিন্দা নুসরাত জাহানের সঙ্গে ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর মিলন উদ্দিনের বিয়ে হয়। দুই লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় নুসরাতের পরিবার থেকে একটি পালসার মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সামগ্রী মিলনের পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পর মিলন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নুসরাতের পরিবারের কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুসরাতকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ মে মিলন তাঁর স্ত্রী নুসরাতকে বাবার বাড়িতে রেখে আসেন। তখন তাঁকে বলা হয়, তাঁর পরিবার পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আর থাকবে না।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এর পর ১৮ জুলাই মিলন কাউকে না জানিয়ে গোপনে নুসরাতকে তালাক দেন। পরে সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ২৮ জুলাই পাবনার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা করেন নুসরাত।
মামলায় মিলন উদ্দিন ছাড়াও তাঁর বাবা আকরাম হোসেন ও মা মর্জিনা খাতুনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি সিআর ৪০২/২৬ (চাটমোহর)। আসামিদের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার হাঁসমারী গ্রামে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর মিলন দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় আদালত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, আদালতের মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতে মিলন উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।