পে স্কেল দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। এসব বিষয়ে রাজনীতি করলে জাতি ধ্বংস হবে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের পরিচিতি সভা ও ‘শিক্ষা খাতে সুশাসন: নিয়োগ, বরাদ্দ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আতিক মুজাহিদ এসব কথা বলেন।
এমপি আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘বারবার আপনারা পে স্কেল নিয়ে কথা বলছেন। পে স্কেল দেবেন কি দেবেন না, সেটা ক্লিয়ার করেন।’
সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নানা অসংগতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এ নেতা।
আতিক মুজাহিদ বলেন, কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগ ছেড়ে দিলে খারাপ স্বভাবের লোকও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থায় মেধা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, দুই দিন আগে একটি মসজিদ পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেল, সেখানে ইমামের বেতন ৪ হাজার টাকা। অথচ মসজিদটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় বড় ভবন নির্মাণে বরাদ্দ হলেও শিক্ষকদের বেতন ৭-৮ হাজার টাকা—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের সমাজ টিকবে কি টিকবে না, এটা নির্ভর করে শিক্ষার ওপর।
শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়োগ, বরাদ্দ, শিক্ষক বদলি ও পদোন্নতিসহ সব ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান সভার বক্তারা। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আব্দুর রহমান রিজভী। তিনি বলেন, শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে থাকতে চান, রাজপথে আসতে চান না। কিন্তু পেটের দায়ে তাঁদের রাজপথে আসতে হচ্ছে। এমপিওভুক্তির জটিলতার কারণে দেশে হাজার হাজার শিক্ষক বিনা বেতনে কাজ করছেন।
সভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্তসহ দলটির নেতারা এবং শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।