রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পরিকল্পিত পর্যটন নগরীর লক্ষ্যে ২৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে সিউক

সিলেটকে পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ আগস্ট। এদিন বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর নাইওরপুলস্থ ২৯/এ (ফরচুন গার্ডেন) ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় সিউকের কার্যক্রম ও সার্বিক বিষয়াদি […]

পরিকল্পিত পর্যটন নগরীর লক্ষ্যে ২৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে সিউক

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:৪৭

সিলেটকে পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ আগস্ট। এদিন বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর নাইওরপুলস্থ ২৯/এ (ফরচুন গার্ডেন) ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় সিউকের কার্যক্রম ও সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

২৫ আগস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এমপি। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এছাড়া সিলেটের সংসদ সদস্য, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৩’-এর আওতায় সিলেট ও এর সন্নিহিত এলাকায় পরিকল্পিত ও আধুনিক পর্যটন নগরী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিউক গঠন করা হয়েছে। আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো সুপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার, ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটন এলাকায় টেকসই, দৃষ্টিনন্দন ও পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা।

সরকার গত ১৯ জানুয়ারি এসআরও নং ২৩-আইন/২০২৬ জারির মাধ্যমে ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বরকে সিউক আইন কার্যকরের তারিখ হিসেবে ঘোষণা করে।

আইন অনুযায়ী সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২১ সদস্যবিশিষ্ট হবে। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে। একজন নির্বাহী পরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সিউকের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভূমির সুষ্ঠু ও যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন, আবাসন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, নিম্নআয়ের মানুষ, বস্তিবাসী ও গৃহহীনদের আবাসন সমস্যা নিরসন, নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ, বনায়ন, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন।

এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, উড়ালসেতু, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নালা-খাল-নর্দমার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা থাকবে সিউকের।

প্রেস কনফারেন্সে আরও জানানো হয়, সিলেট মহানগরীর ৭৯ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার পাশাপাশি সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলা নিয়ে প্রায় ৯৯৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সিউকের অধিক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

সিউকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অধিভুক্ত এলাকায় পাহাড়, টিলা, নদী-খালসহ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ইতোমধ্যে সিউকের রাজস্ব খাতে ৬৭টি ক্যাটাগরিতে ৭১৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব, পদগুলোর যৌক্তিকতা, বেতন স্কেল, নিয়োগযোগ্যতা নির্ধারণ এবং প্রবিধানমালা প্রণয়ন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

এছাড়া স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত বিসি কমিটির প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬, বিএনবিসি ২০২০ ও সিউক আইন ২০২৩ অনুযায়ী প্রকৌশলী, স্থপতি ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির কাজ চলছে। একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আগ পর্যন্ত গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিত্যক্ত বা অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

সিউকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরি, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন, পর্যটন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলোর সুরক্ষা, পর্যটন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং প্রবাসীদের জন্য সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন।

এছাড়া সিউকের স্থায়ী কার্যালয়ে কার্যক্রম স্থানান্তর, দুটি জোনাল অফিস স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন, বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে সবুজায়ন, গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সিলেট-তামাবিল সড়ক সংলগ্ন আবাসিক এলাকা উন্নয়ন, বাদাঘাট এলাকার জেল রোড সংলগ্ন আবাসিক এলাকার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংযোগ সড়ক, বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও প্রেস কনফারেন্সে তুলে ধরা হয়।

প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে সিউকের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুণ্যভূমি সিলেটকে একটি বাসযোগ্য, আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করবে। এ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও গঠনমূলক পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।