মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলন্ত বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের এক চালক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে উপজেলার বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় চার যাত্রী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন—সোহেল (২৬), সিয়াস (২১), হাসিনা আক্তার (৪৫) ও নাসিমা বেগম (৪৮)।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বাসের ভেতরে ঢুকে লোহার রড বা দণ্ডজাতীয় বস্তু হাতে নিয়ে যাত্রীদের মারধর করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দুই নারীসহ কয়েকজন যাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথে কুমিল্লার মাধাইয়া এলাকায় বাসটি একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার পর বাসের যাত্রীরা চালককে বাস থামাতে বাধ্য করেন। এ সময় চালকের সঙ্গে যাত্রীদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন চালককে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি থানায় নিয়ে যায়। এ সময় চালক সেখান থেকে পালিয়ে গজারিয়ায় নিজের বাড়িতে চলে যান।
পরবর্তী সময়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানোর জন্য আরেকটি বাস পাঠায়। অভিযোগ অনুযায়ী, আগের বাসের চালক স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গজারিয়ার বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকায় অবস্থান নেন।
আটকে পড়া যাত্রীরা নতুন বাসে করে ওই এলাকায় পৌঁছালে চালক বাসটি থামানোর সংকেত দেন। বাস থামার পরই চালক ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বাসে উঠে যাত্রীদের মারধর শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় লোহার রডসহ বিভিন্ন দণ্ডজাতীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়।
হামলার একপর্যায়ে কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আহত চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোহেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী যাত্রী সাফায়েত হোসেন বলেন, মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একজন চালক গজারিয়ায় বাস থামিয়ে সহযাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। এতে চার-পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
গজারিয়া হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।