সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

জ্বালানি সংকট সমাধানে ৩ মাস আগে দেওয়া জামায়াতের পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়ন করেছেন : মিয়া গোলাম পরওয়ার

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তিন মাস আগে দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং জনদুর্ভোগ’ শীর্ষক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, […]

জ্বালানি সংকট সমাধানে ৩ মাস আগে দেওয়া জামায়াতের পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়ন করেছেন : মিয়া গোলাম পরওয়ার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৬ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৪৬

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তিন মাস আগে দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং জনদুর্ভোগ’ শীর্ষক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর কাছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা চেয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী সরকারের এ আহ্বানকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নতুন করে পরিকল্পনা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ প্রায় তিন মাস আগেই সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট ১০ দফা সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ জমা দেন। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সদস্যও ছিলেন। তারা দুটি বৈঠকে অংশ নিয়ে সংকটের কারণ ও সমাধান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন। পরে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী ওই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যমান কূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করা, স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।

এ ছাড়া সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) দ্রুত চালু, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় ডিপো থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল মনিটরিং, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা নিরূপণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার প্রস্তাবও ছিল বলে জানান তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এখন প্রশ্ন নতুন পরিকল্পনা আছে কি না, তা নয়। মূল প্রশ্ন হলো, ২১ মে থেকে সরকারের হাতে থাকা পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, কোন সুপারিশের কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনগুলো এখনও কাগজে পড়ে আছে। জনগণের সামনে এসব তথ্য পরিষ্কার করা উচিত।

তিনি বলেন, বিরোধী দল শুধু সমালোচনা করেনি; সংকট মোকাবিলায় সময়মতো বাস্তবসম্মত বিকল্পও দিয়েছে। গত ১৪ আগস্ট জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংকট নিরসনে সংসদের জরুরি অধিবেশন আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন। এর একটি অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে।

গত ৮ আগস্ট জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিরসনে দেওয়া প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেন পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, দ্রুত ফলনশীল কূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং দ্রুত কার্যকর করা, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় ডিজিটাল নজরদারি এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর কথাও তাদের প্রস্তাবে ছিল। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সমীক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পরওয়ার বলেন, পরিকল্পনা যখন ২১ মে থেকেই সরকারের হাতে রয়েছে, তাহলে গত প্রায় তিন মাসে এর কোনটি বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটির কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনটি গ্রহণ করা হয়নি—তা জানানো প্রয়োজন। কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে এর কারণও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। নতুন পরিকল্পনা জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতা নয়, বরং ইতোমধ্যে দেওয়া পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে চায় জামায়াতে ইসলামী।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফ্যান চলছিল কি না, সেটি দিয়ে দেশের সামগ্রিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যায় না। তাঁর মতে, প্রতিবাদের কোনো প্রতীকী ছবি নিয়ে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ না করে সংকটের বাস্তবতা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।

গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে উল্লেখ করে পরওয়ার বলেন, জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার পর দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে শিল্পকারখানা, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ সংকটে পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, মানুষ চুলায় গ্যাস, কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়। এসব দাবির জবাব রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মাধ্যমে নয়, কার্যকর সমাধানের মাধ্যমে দেওয়া উচিত।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জামায়াতে ইসলামী চার দফা প্রস্তাব দেয়। একই সঙ্গে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানায় দলটি।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৪

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৪

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৪

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩