রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৩ আগস্ট বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। রোববার যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থনকারী ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন, এখন তারা আগামী ২০ আগস্টের নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করবেন।
এদিকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এর প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়টি পরবর্তী পর্যায়ের বিষয়। ভবিষ্যতে সংসদ চাইলে আলোচনার মাধ্যমে এটি সংশোধন করা যেতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অপ্রয়োজনীয় এবং এতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ৭০ অনুচ্ছেদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি বড় কোনো বাধা নয়। প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ীই বর্তমান প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। কোথাও কোনো সাংবিধানিক বাধা থাকলে তা সংসদের মাধ্যমেই সংশোধন করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে দলের পরবর্তী সিদ্ধান্ত বা কোনো পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত নয়। দলের মহাসচিবকে নিয়ে সিদ্ধান্ত দলের স্থায়ী কমিটি ও গুলশান কার্যালয়ে আলোচনা করে নেবে।
এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।