জ্বালানি ও বিভিন্ন সেবা খাত বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, গ্যাস ও তেলসহ বিভিন্ন খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি জিম্মি হয়ে পড়তে পারে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে উপজেলা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা শুনছি যে গ্যাস, তেল এগুলো সব প্রাইভেট সেক্টরে দিয়ে দেওয়া হবে। এগুলো নগদ অর্থের বিনিময়ে দেওয়া হবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তখন যারা প্রাইভেট সেক্টরে নেবে, তারা জনগণকে আরও বড় জিম্মি করে রাখবে। তখন আমাদের কান্নাকাটি করারও কোনো জায়গা আমরা খুঁজে পাব না।”
সরকার নিজেদের দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার তাদের দায় এখন জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা খুবই শঙ্কিত।”
সাঘাটায় সহিংসতায় নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে যাওয়ার প্রসঙ্গেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো বলা যায় না এবং বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি তো আপনারা সবাই দেখতেই পাচ্ছেন। আসলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে ভালো বলা যাবে না। বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি।”
দেশের অর্থনৈতিক চাপ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষের আয়-ইনকাম বাড়ছে না, মানুষের আয় বৃদ্ধি না করে তার ওপর ব্যয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এটা তো চলতে পারে না।”
গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগস্ট মাসের জন্য দাম বাড়ানো হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে আবারও দাম বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, “গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো, বলা হলো এটা আগস্ট মাসের জন্য। তার মানে সেপ্টেম্বরের জন্য আবার রেডি থাকেন আরেকটা বাড়ার। এভাবে মাসে মাসে বাড়বে।”
তিনি আরও বলেন, মাত্র দুই-তিন মাস আগেই গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, ফলে এর দাম প্রায় দেড় গুণ হয়েছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে আবারও দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের অব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, মানুষের আয় না বাড়লেও বারবার গ্যাস ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার নিজেদের দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ব্যাংকিং সেক্টরে কোনো শৃঙ্খলা নেই। শেয়ার মার্কেট মাটির সঙ্গে পড়ে আছে, উঠে দাঁড়াচ্ছে না।”
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আপনারা বলতেও পারেন না, লিখতেও পারেন না। একটা অঘোষিত সেন্সরশিপ আরোপ করে রাখা হয়েছে।”
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম।