মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

স্বপ্নের টানে জার্মানি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্র্যান্ডেনবার্গ ইউনিভার্সিটিতে সিরাজুম মুনিরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনিরা রিংকীর জার্মানযাত্রা; দীর্ঘ ২৯ মাসের অপেক্ষা, নিজের হাতে আবেদন থেকে ভিসা—সব পেরিয়ে এখন নতুন স্বপ্নের দুয়ারে। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেছিলেন সিরাজুম মুনিরা রিংকি। তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, অপেক্ষা আর নানা অনিশ্চয়তার পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়ার সময় […]

স্বপ্নের টানে জার্মানি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্র্যান্ডেনবার্গ ইউনিভার্সিটিতে সিরাজুম মুনিরা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনিরা রিংকীর জার্মানযাত্রা; দীর্ঘ ২৯ মাসের অপেক্ষা, নিজের হাতে আবেদন থেকে ভিসা—সব পেরিয়ে এখন নতুন স্বপ্নের দুয়ারে।

উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেছিলেন সিরাজুম মুনিরা রিংকি। তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, অপেক্ষা আর নানা অনিশ্চয়তার পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়ার সময় জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারি।

এরপর ধীরে ধীরে নিজের প্রস্তুতি শুরু করি। গবেষণা, ভাষা শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, ভিসা প্রক্রিয়া—প্রতিটি ধাপ নিজেই সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ২৯ মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে পেয়েছি জার্মানির স্টুডেন্ট ভিসা।

এখন আমার গন্তব্য জার্মানির Brandenburg University of Technology (BTU), Cottbus-Senftenberg। ২০২৬-২৭ সালের উইন্টার সেমিস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়টির M.A. Heritage Conservation and Site Management (HCSM) প্রোগ্রামে শুরু করবেন মাস্টার্সের পড়াশোনা। আগামী অক্টোবর থেকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন সহপাঠী আর নতুন পরিবেশে শুরু হবে নতুন অধ্যায়।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানজিল কাজী

স্বপ্নের শুরু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে

উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে জানতে পারি। তখন থেকেই দেশটিতে মাস্টার্স করার স্বপ্নটি ধীরে ধীরে দৃঢ় হতে থাকে।

এরপর শুরু হয় নিজেকে প্রস্তুত করার পালা। বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক কোর্স, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কেও নিজে জানতে থাকি। পথটি সব সময় মসৃণ ছিল না। কখনো অপেক্ষা, কখনো অনিশ্চয়তা, আবার কখনো নতুন কোনো বিষয় শেখার প্রয়োজন—সবকিছুর মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে।

 ধৈর্য,অধ্যবসায় ও সাহসই প্রতিটি ধাপ পার হতে সাহায্য করেছে আমাকে।

চিন্তার জগৎ বদলে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের গবেষণাভিত্তিক আলোচনা, বিদেশে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সেমিনার, রিসার্চ সোসাইটি ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করেছে ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত পরিবেশ প্রশ্ন করতে , যুক্তি দিয়ে ভাবতে এবং নিজের মতামত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করতে শিখেছি। একটি বিষয়কে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অভ্যাসও তৈরি হয়েছে এখান থেকে।

একাডেমিক পরিবেশই পরবর্তী সময়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

কেন জার্মান বেছে নিয়েছেন?

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে জার্মানিকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক গবেষণার সুযোগ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তুলনামূলক কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ আমাকে আকৃষ্ট করেছে।

এর পাশাপাশি জার্মানির সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাও আমার আগ্রহ বাড়িয়েছে। শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কাজের সুযোগও দেশটি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ।

 ইতিহাস থেকে হেরিটেজ কনজারভেশন

ইতিহাসের শিক্ষার্থী হিসেবে মাস্টার্সের বিষয় নির্বাচন করা সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ও প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষণা করি। ২০২৬-২৭ সালের উইন্টার সেমিস্টারের জন্য জার্মানির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক অফার পাওয়ার পর নিজের একাডেমিক পটভূমি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শেষ পর্যন্ত আমার পছন্দের তালিকার শীর্ষে আসে Brandenburg University of Technology-এর M.A. Heritage Conservation and Site Management প্রোগ্রাম।

এই প্রোগ্রামে ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পর্যটন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় একসঙ্গে শেখার সুযোগ রয়েছে। ইতিহাসের শিক্ষার্থী হিসেবে বিষয়টির সঙ্গে পূর্ববর্তী পড়াশোনার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, ক্যাম্পাস পরিবেশ ও গবেষণার সুযোগও আমাকে আকৃষ্ট করেছে।

ইংরেজির পাশাপাশি জার্মান ভাষা

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে ভাষা শেখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। মাস্টার্স প্রোগ্রাম ইংরেজি মাধ্যমে হলেও জার্মান ভাষা শেখার প্রতি শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়েছি।

বর্তমানে জার্মান ভাষার A2 লেভেলের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিয়মিত নতুন শব্দ শেখা, ব্যাকরণ অনুশীলন ও কথোপকথনের মাধ্যমে ভাষাটি আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছি।

একটি ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এর মাধ্যমে একটি দেশের সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। তাই জার্মানিতে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর পর্যায়ের জার্মান ভাষা দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে ।

 আবেদনপ্রক্রিয়া কেমন ছিল?

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়ার যাত্রার অন্যতম কঠিন অধ্যায় বলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, অফার লেটার, ব্লকড অ্যাকাউন্ট এবং ভিসা—প্রতিটি ধাপই নিজে সম্পন্ন করেছি ।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর চারটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার আসে। এরপর পছন্দের প্রোগ্রামে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্লকড অ্যাকাউন্টের কাজ শেষ করি। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে ঢাকায় VFS Global Germany-তে জমা দেই।

সবচেয়ে দীর্ঘ ছিল ভিসার অপেক্ষা। প্রায় ২৯ মাস অপেক্ষার পর হাতে আসে কাঙ্ক্ষিত জার্মান স্টুডেন্ট ভিসা।

এই দীর্ঘ সময়কে জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষার সময় মনে করি। আমার কাছে অপেক্ষা শুধু সময় পার হওয়ার বিষয় ছিল না; বরং লক্ষ্য ঠিক রেখে ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরীক্ষা ছিল।

নারী হিসেবে পথটা সহজ ছিল না

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ একজন নারী শিক্ষার্থীর জন্য সব সময় সহজ নয়। নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি, ভিন্ন পরিবেশ—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিবারের সমর্থনও প্রয়োজন।

আমার পরিবার ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। বাবা-মা আর্থিক ও মানসিকভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্লকড মানির ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কাজে পাশে থেকেছেন তাঁরা।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের আবাসিক জীবনে সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছ থেকেও পেয়েছি সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ।

স্বপ্ন দেখছেন ঐতিহ্য সংরক্ষণের

জার্মানিতে মাস্টার্স করতে যাওয়ার লক্ষ্য শুধু একটি বিদেশি ডিগ্রি অর্জন নয়—পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জাদুঘর ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা খাতে কাজ করতে চাই।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত হয়ে আধুনিক সংরক্ষণ কৌশল বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করার স্বপ্নও রয়েছে আমার।

 বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু অতীতের স্মারক নয়; এগুলো জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞান ও শিক্ষার মূল্যবান উৎস।

 আগ্রহীদের জন্য পরামর্শ

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন—অনার্স পর্যায় থেকেই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ভর্তি-সংক্রান্ত নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

ইংরেজির পাশাপাশি জার্মান ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন দেশের আবহাওয়া, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও থাকতে হবে।

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়ার অধিকাংশ ধাপ নিজেই সম্পন্ন করা সম্ভব। তাই অপ্রয়োজনে কোনো এজেন্সির ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র অনুসরণ করা উচিত। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। তাই দ্রুত ফল পাওয়ার প্রত্যাশা না করে ধৈর্য ধরে নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের পরিচিত পরিবেশ থেকে এবার আমার গন্তব্য জার্মানির নতুন এক শহর। সামনে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি ও নতুন বাস্তবতা। তবে দীর্ঘ ২৯ মাসের অপেক্ষা পেরিয়ে যে স্বপ্নের দরজা খুলেছে, সেখানে এখন আমার একটাই লক্ষ্য—জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে একদিন নিজের দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সেই অর্জনকে কাজে লাগানো।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।