সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় বিবাহবিচ্ছেদের জেরে সাবেক স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী মাহবুবুর রহমানের (৫১) বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান সুমাইয়া আক্তার শ্যামলী (২৫)। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করেছে বিরল থানা পুলিশ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া (সুতারপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমাইয়া আক্তার শ্যামলী ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। আটক মাহবুবুর রহমান রংপুর কোতোয়ালি থানার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত সফি উদ্দীনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে মাহবুবুর রহমান ও শ্যামলীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। শনিবার রাতে মাহবুবুর রহমান জোরপূর্বক শ্যামলীর বাবার বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে শ্যামলীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আগুনে দগ্ধ হয়ে শ্যামলী চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরে গুরুতর দগ্ধ শ্যামলীকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে রংপুর নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের নানি মোমিনা দাবি করেন, প্রথমে ছুরি দিয়ে তার নাতনিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে ব্যর্থ হয়ে পরে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল ইমরান বলেন, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই থানায় এলে মামলা গ্রহণ করা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।