সিলেটের জৈন্তাপুরে গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলটির দাবি, দুর্বৃত্তদের ছোড়া ইটের আঘাতে বহরের একটি চলন্ত গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুজন আহত হয়েছেন। তবে স্থানীয় পুলিশ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। পরে রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম।
সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, জৈন্তাপুরের কর্মসূচি শেষে বহরটি রওনা হওয়ার কয়েক মিনিট পর একটি বড় ইট গাড়িতে আঘাত হানে। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং কাচের টুকরো ও ইটের আঘাতে তার হাত কেটে যায়। পাশে থাকা আরেক সফরসঙ্গীও আহত হন। তার দাবি, ইটটি মাথায় লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের নিরাপত্তা ও প্রটোকল থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সিলেট জেলা এনসিপির সদস্যসচিব কামরুল আরিফও দাবি করেন, চলন্ত গাড়িবহরে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে হামলার অভিযোগ নাকচ করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, এনসিপির গাড়িবহরকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। তাদের থানার আওতাধীন এলাকায় কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে শাহপরান থানা পুলিশও। তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় এনসিপির গাড়িবহরের ওপর হামলার কোনো তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা চলাকালেও এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল।