ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, জোটে থাকার রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বিকল্প রাজনৈতিক সমীকরণ গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে দলটি।
সূত্রগুলো জানায়, কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক সংস্কার, বিচার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সম্ভাব্য নতুন জোট গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এনসিপির নেতাদের মতে, দলটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য একটি বৃহৎ জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা। তাদের ধারণা, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে সেই লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ সীমিত হতে পারে। তাই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে সেখানে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকার সম্ভাবনাও তারা বিবেচনা করছে।
এরই মধ্যে খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ায় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের এক সদস্য জানান, জুলাই মাসের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে এনসিপি। দলটি ইতোমধ্যে কয়েকটি সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে বিভিন্ন ইসলামপন্থী দলের মধ্যে রাজনৈতিক সমন্বয়ের আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
তবে জামায়াতে ইসলামী বলছে, জোটের অভ্যন্তরে কোনো মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান তাদের নিজস্ব বিষয় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতার সিদ্ধান্তও স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতেই হবে।