জিয়াউর রহমান,পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় মোবাইলে ফ্রী ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে রাকিব কাজী (২২) নামের এক যুবককে ছুড়িকাঘাত করে গুরুতর যখন করা হয়েছে। জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত রাকিবকে খুলনা মেডিকেলে প্রেরণ করেছেন।
আহত রাকিব কাজী উপজেলাধীন ২ নম্বর পত্তাশী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের চরনী পত্তাশী গ্রামের মৃত আকরাম কাজীর পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১জুলাই) বিকালে পত্তাশীর কাজীপাড়া এলাকায় আকরাম কাজীর দোকানের সামনে বসে আহত রাকিব কাজী ও অভিযুক্ত রাতুল মোল্লা সহ পাঁচ থেকে সাত জন একত্রে বসে ফ্রী ফায়ার গেম খেলতেছিল। এক পর্যায়ে খেলার মধ্যে তাদের কথা কাটাকাটি হয় এবং হাতাহাতির মতো ঘটনা ঘটে।
খেলায় অংশ নেওয়া প্রত্যক্ষদর্শী রিফাত কাজী জানান, খেলার মধ্যে ওদের সাথে যা ঝামেলা হয়েছিল তা ওইখানেই আমরা সবাই মিলে সমাধান করে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে যা হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক।
গুরুতর আহত রাকিব কাজী জানান, আমরা সবাই মিলে বিকালে গেম খেলতেছিলাম এ অবস্থায় আমার সাথে রাতুল খুব খারাপ ব্যবহার করে। এমনকি আমার গায়ে হাত তোলে। ওই ঘটনা ওখানেই বিকেলে সমাধান হয়ে গেছিল।
পরবর্তীতে রাতুলের বাবা মানিক মোল্লা (৫০), তার স্ত্রী (৪০) এবং তার চাচাতো ভাই বাপ্পি মোল্লা (২৪) মিলে আমাকে রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে মারতে আসে। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাতুল আমাকে মারতে থাকে ওবং ওর বাবা মানিক মোল্লা আমার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয় এবং হাতে পোজ দিয়ে হাত কেটে দেয়। এ সময় ওর মা আমাকে জাপটে ধরলে আমি অজ্ঞান হয়ে পরে যাই। পরবর্তীতে চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালে।
জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার আকাশ সাহা জানান, রোগীর পেটের আঘাতটি খুব গুরুতর। স্টামিং ইনজুরি ডিপ হওয়ার কারণে তাকে খুলনা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রাতুল মোল্লার 01975693302 নম্বারে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ফোন কলটি রিসিভ করেছে তার চাচাতো ভাই পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি। রাতুলের কথা জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেন রাতুল ফোনের কাছে নেই। এ কথা বলে ফোনটি সে কেটে দেন।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মোহাব্বত খান বলেন, আমরা মারামারির ঘটনাটি শুনতে পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আহত রাকিবের পক্ষের সাথে রাস্তায় পুলিশের দেখা হলে তারা মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।