কাওসার আহমেদ,
নাটোরের গুরুদাসপুরে এক নারীর পায়ের হাড়ে অস্ত্রোপচারের সময় ড্রিল মেশিনের ভাঙা ফলা রেখে সেলাই করার অভিযোগে অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আগামী ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর ঘটনাটি আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২০ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গুরুদাসপুর উপজেলার ধাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা বেগমের (৫৫) বাম পায়ে অস্ত্রোপচারের সময় ড্রিল মেশিনের একটি ভাঙা ফলা হাড়ের ভেতরে রেখেই ক্ষত সেলাই করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হাড়ের ভেতরে ড্রিলের ফলা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
আনোয়ারা বেগমের দাবি, গত ৩ জুন বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় অবস্থিত জাহেদা ক্লিনিকে তাঁর অস্ত্রোপচার করেন ডা. জাহিদুল ইসলাম। অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
ঢাকার একটি ট্রমা সেন্টারের অর্থোপেডিকস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আয়ুব আলী বলেন, রোগীর অস্ত্রোপচারের স্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, ড্রিল মেশিনের একটি ভাঙা ফলা হাড়ের ভেতরে রয়ে গেছে। হাড় জোড়া দিতে ব্যবহৃত স্ক্রুগুলোও সঠিকভাবে বসানো হয়নি। সংক্রমিত অংশের চিকিৎসা করা হলেও হাড়ের ভেতরে থাকা ফলাটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে গত ২০ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেন ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে মিথ্যা দাবি করেন। তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারীর উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলমাছ বলেন, হাসপাতালের কোনো কর্মচারীর ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।
রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।