ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েমসহ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নয় নেতা সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলামও সংগঠন থেকে বিদায় নিয়েছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
সাদিক কায়েম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যেই ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ডাকসুর মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ছাত্র সংসদের দায়িত্বে থাকবেন বলে জানান।
ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নেওয়া নেতারা হলেন—কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম, মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান এবং দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে তিনি ভিপি পদে নির্বাচিত হন। ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারা। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে নতুন নির্বাচন না হলে নির্ধারিত সময়ের পর আরও তিন মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) দায়িত্ব নেয় রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। তাদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবা বলেন, সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুই দফায় নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা হয়। জুলাই মাসের এই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় যারা ছাত্ররাজনীতি থেকে সরে গিয়ে পেশাজীবন বা জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান, তাদের বিদায় দেওয়া হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। ওই সময়ে সংগঠনটি নিষিদ্ধ থাকায় তিনি আলোচনার বাইরে ছিলেন। পরবর্তীতে আন্দোলনে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নাম আলোচনায় রয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক মহলে সাদিক কায়েমের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।