মঈন উদ্দীন, বান্দরবান।
টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
শুক্রবার দিনভর বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও শনিবার (১১ জুলাই) ভোর থেকে আবারও টানা ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির পুনরায় অবনতি ঘটে।
বৃহস্পতিবার বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় সেখানে নৌকা চলাচল শুরু হয়েছিল। শুক্রবার পানি কমে যাওয়ায় নৌকা সরিয়ে নেওয়া হলেও শনিবার সকালে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় একই সড়কে আবারও নৌকা চালু করা হয়েছে।
বান্দরবান সদরের আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, বনানী স’মিল এলাকা, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী অঞ্চল এবং ক্যাচিংঘাটাসহ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
পানিবন্দি মানুষ প্রশাসনের নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মাঝে খিচুড়ি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বর্ষণের কারণে বান্দরবান-কেরানীহাট এবং বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও সড়কের ওপর মাটি ধসে পড়েছে, আবার কোথাও সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার সাতটি উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জেলার সাত উপজেলায় বিদ্যালয়সহ ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিতদের জন্য নিয়মিত খিচুড়ি ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।