রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা সংবাদদাতা
বরগুনার আমতলীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে আমতলী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের মাথায় হলুদ রঙের ক্যাপ ও মুখে মাস্ক ছিল। রাত ১০টার দিকে মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলে শতাধিক ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করা হলেও এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন বলে দাবি করেছেন আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মতিন খান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে বাধাহীনভাবে দেশে ফিরতে দিতে হবে এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। দাবি পূরণ না হলে পর্যায়ক্রমে আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগকেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সংগঠন দুটির প্রকাশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার রাতেই সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমরা দেখেছি। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিছিলটি অল্প সময়ের জন্য অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।