ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আর কোনো গণঅভ্যুত্থান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার ভাষ্য, মানুষ একবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবর্তনের জন্য রাজপথে নেমেছিল, কিন্তু পরবর্তী পরিস্থিতি তাদের হতাশ করেছে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবেশ কেন বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙচুর এবং একাত্তর ও চব্বিশের ঘটনাপ্রবাহকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পরও সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিভাজন সংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১২টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ সীমিত করে জনগণের প্রত্যাশাকে সংকুচিত করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।