ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন আজ বৃহস্পতিবার তার জন্মস্থান ইরানের মাশহাদে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বুধবার খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে নেওয়া হলে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শোকযাত্রায় অংশ নেন।
নাজাফের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ কারবালায় নেওয়া হবে। সেখান থেকে তা আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদে দাফন করা হবে।
বুধবার ভোর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শোকযাত্রা শুরু হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি একটি বিশেষ কাচের বাক্সে বহন করা হয়। হজরত আলি (রা.)-এর পবিত্র মাজারে তার জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ কারবালার উদ্দেশে নেওয়া হয়, যেখানে ইমাম হুসেন (রা.) ও হজরত আব্বাস (রা.)-এর মাজারেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
ইরাকে শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া লাখো মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা। রাস্তা জুড়ে বুক চাপড়ে মাতম করতে দেখা যায় বহু শোকাহত মানুষকে। নাজাফ ও কারবালার বিভিন্ন সড়কে শোকযাত্রীদের জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা বিনা মূল্যে খাবার ও পানীয় বিতরণ করেন।
খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের এ আয়োজন এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক হামলা-পালটা হামলার মধ্যেই এ শোকানুষ্ঠান চলছে। ইরানের কর্মকর্তাদের আশা, বিপুল জনসমাগম দেশটির জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে।
ইরাকের নাজাফ শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র নগরী। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য শিয়া ধর্মীয় নেতা এখানে শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা প্রদান করেছেন। তাদের মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিও রয়েছেন। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো শিয়া মুসলিম নাজাফ ও কারবালা সফর করেন।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তবে লিখিত বার্তার মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই শোকযাত্রা শুধু ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ইরান-ইরাকের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কেরও প্রতীক। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেইনের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা লাভ করে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে খামেনির শেষ বিদায়ের এই ঐতিহাসিক আয়োজনে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?