নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনিকে তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানাজার অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন মুজতাবা খামেনি। ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তাকে জনসমক্ষে উপস্থিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে পত্রিকাটি দাবি করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস আরও দাবি করেছে, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রথম দিনের বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হওয়ার সময় মুজতাবা খামেনিও আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়, যার মধ্যে ছিল ‘আমেরিকার মৃত্যু’, ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ’।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ভিডিওতে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো আলি খামেনির কফিনের ওপর তার কালো পাগড়ি রাখা দেখা যায়। একই মঞ্চে তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিনও রাখা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা ও আলি খামেনির ছবি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রতিশোধমূলক স্লোগান দিতেও দেখা যায়। তীব্র গরমের কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষের জন্য ছাদ থেকে পানি ছিটিয়ে শীতল পরিবেশ তৈরির ব্যবস্থাও করা হয়।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত খামেনির কফিন মোসাল্লায় রাখা হবে। এরপর তা কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। আগামী বৃহস্পতিবার মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
এদিকে, শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান সমঝোতায় আগ্রহী।
অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের প্রধান আলি আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব’ করা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মুজতাবা খামেনি আহত হয়েছেন এবং নিরাপত্তার কারণে তাকে জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি—এ দুই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তথ্যগুলো দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?