আবু তাহের, জাককানইবি
আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তাই পরিবেশ। চারপাশের অবস্থা, জলবায়ু, প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য জীব ও জৈব উপাদান সবকিছুই পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত। আজ ৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’। পরিবেশ নিয়ে জনসচেতনতার লক্ষ্যে প্রতি বছর এই দিনে পালিত হয় দিবসটি। বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়া, নদী দূষণ, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তিত গোটা মানব জাতি।
তাই প্রকৃতিকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার, পরিবেশবিদ, শিক্ষার্থী, সচেতন নাগরিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বিশ্ব পরিবেশ দিবস নিয়ে কী ভাবছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা! চলুন জেনে আসা যাক তাদের ভাবনা। তাদের কথা লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন আবু তাহের।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মীর রিয়া বলেন, ‘আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব বর্তমানে সারা বিশ্বেই দৃশ্যমান। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এর অন্যতম বড় ভুক্তভোগী। বন্যা, তীব্র তাপদাহ ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেবল জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়, এটি পরিবেশবান্ধব অভ্যাসেরও চারণভূমি হতে পারে। আমরা ক্যাম্পাসকে পলিথিন ও প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে পারি, যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে পারি, পানির অপচয় রোধ করতে পারি এবং বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশকে আরও সজীব করে তুলতে পারি। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। পরিবর্তনের শুরুটা হোক আমার-আপনার হাত ধরেই।’
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রকিবুল ইসলাম রবিন বলেন, ‘আমাদের চারপাশে যা আছে এবং তাদের পরস্পরের মিথস্ক্রিয়াই পরিবেশ। পৃথিবী যত দ্রুত বদলাচ্ছে, পরিবেশও তত পরিবর্তিত হয়ে আমাদের একটি বিপজ্জনক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিবছর ১৫ বিলিয়ন গাছ কাটা হলেও রোপণ করা হয় মাত্র ৫ বিলিয়ন।
কলকারখানা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ফসিল ফুয়েল থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়াচ্ছে। কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশের নিচে হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমাদের চিন্তাধারা ও কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসুক। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ রক্ষার আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠুক। Zero Plastic Waste, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত চর্চা হোক।’
আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিহা আক্তার রাফা বলেন, ‘আমরা কি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে পারব? জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দূষণ, অস্বাভাবিক গরম, বন্যা ও খরা আজ আমাদের বাস্তবতা।
এর পেছনে নির্বিচারে গাছ কাটা, প্লাস্টিকের অপব্যবহার ও প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের বড় ভূমিকা রয়েছে।তবুও আমি আশাবাদী। একটি গাছ লাগানো, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণই পারে পরিবর্তন আনতে। আমাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনের পৃথিবী হবে আরও সবুজ, নির্মল ও ভারসাম্যপূর্ণ। প্রকৃতিকে তার স্বাভাবিক রূপে বাঁচতে দিতে হবে।’
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, ‘পরিবেশ নিয়ে লিখতে গিয়ে উপলব্ধি করছি, আমরা কতটা বীভৎসভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে চলেছি। উন্নয়নের নামে গাছ কাটা, খাল-বিল ভরাট এবং দূষণ পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে।
গবেষণা বলছে, শুধু বায়ুদূষণের কারণেই দেশে প্রতিবছর ১ লাখ ২ হাজারের বেশি মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। শব্দদূষণ ও তীব্র তাপপ্রবাহও মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। মোট কথা, পরিবেশ ধ্বংস করে আমরা নিজেদেরই সর্বনাশ করছি। তাই প্রান্তিক পর্যায় থেকে মানুষকে সচেতন করার বিকল্প নেই। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায়—”এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘পরিবেশের সঙ্গে মানুষ ওতপ্রোতভবে জড়িত। পরিবেশ ছাড়া মানুষের জীবন অকল্পনীয়। তবে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে দিন দিন পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ সংক্ষরণ বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃতি পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে বৃক্ষ। বৃক্ষকে বলা হয় মানুষের পরম বন্ধু। আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বৃক্ষ সরবরাহ করে এবং মানুষের ত্যাগ করা দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃক্ষ গ্রহণ করে। এছাড়া বৃক্ষ আমাদের ফলমূল দিয়ে থাকে। কিন্তু আমরা এই পরম বন্ধুকে প্রতিনিয়ত ধ্বংস করছি। অধিক জনসংখ্যার চাপে বন উজাড় করে তৈরি করছি বাসস্থান। তাই বন উজাড়ের বদলে সময় এসেছে বনায়ন বাড়ানোর।’