মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় দৈনিক প্রথম আলোর ফিচার বিভাগের প্রধান ফটোসাংবাদিক কবির হোসেন ও তাঁর ছোট ভাই তকবির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের দোসরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোসরপাড়া এলাকায় কবির হোসেনের পরিবারের প্রতিষ্ঠিত একটি লালন চর্চাকেন্দ্র রয়েছে। চর্চাকেন্দ্রের সীমানা নির্ধারণ ও বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চর্চাকেন্দ্রের সীমানা বেড়ার কাজ চলাকালে একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন কবির হোসেন। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর ছোট ভাই তকবির হোসেনও মারধরের শিকার হন।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কবির হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহানারা আক্তার জানান, আহত কবির হোসেনের মাথা ও দাঁতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাঁর অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, লতব্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় তাঁর ছেলে তৌহিদ মাদবরসহ কয়েকজন অংশ নেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কবির হোসেন দাবি করেন, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে একটি পক্ষ লালন চর্চাকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পক্ষ সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান বলেন, হামলার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী বলেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।