পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা উপজেলায় মোসা. ছালমা আরফিন (৩৬) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর মানসিক চাপ ও পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরঘূর্ণী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছালমা আরফিন মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. বশির বেপারীর স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুমকি উপজেলা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের মেয়ে ছালমা আরফিনের সঙ্গে প্রায় ৯ থেকে ১০ বছর আগে দশমিনার বাসিন্দা বশির বেপারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বশির বেপারী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতেন এবং বছরে এক বা দুইবার দেশে আসতেন। তাদের সংসারে আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ২০ দিন আগে বশির বেপারী দেশে এসে পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। দেশে অবস্থানকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই ছালমা আরফিন অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন।
নিহতের শাশুড়ি কদভানু জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি ছালমাকে মোবাইলে কথা বলতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর ছালমা নিজের পরনের কাপড়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে দেন। পরে ছালমা পুকুরে গিয়ে ফিরে আসেন। কিছু সময় পর তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছালমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের বাবা মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার স্বামী বিভিন্ন সময় মোবাইলে মানসিকভাবে চাপ দিত। কয়েকদিন আগে দেশে থাকাকালেও তাদের মধ্যে সমস্যা হয়েছিল। হয়তো এসব কারণেই সে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গ এ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।