বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নতুন সরকারের কাছে যেমন বাংলাদেশ চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আবু তাহের, জাককানইবি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষমতার পালাবদল ও বিরোধী শক্তির নতুন বিন্যাস রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন এক সমীকরণ তৈরি করেছে। একই সময়ে সাম্প্রতিক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিপুল সমর্থন রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন ধারার প্রতি জনগণের আগ্রহ ও সম্মতির ইঙ্গিত বহন করছে। এই বদলে […]

নতুন সরকারের কাছে যেমন বাংলাদেশ চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৭

আবু তাহের, জাককানইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষমতার পালাবদল ও বিরোধী শক্তির নতুন বিন্যাস রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন এক সমীকরণ তৈরি করেছে। একই সময়ে সাম্প্রতিক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিপুল সমর্থন রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন ধারার প্রতি জনগণের আগ্রহ ও সম্মতির ইঙ্গিত বহন করছে।

এই বদলে যাওয়া বাস্তবতায় সামনে কেমন বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে, তা নিয়ে ভাবছেন দেশের তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার, শিক্ষা ও অর্থনীতির দিকনির্দেশনা, পাশাপাশি নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ত্রয়োদশ সংসদ পরবর্তী বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের চিন্তা-ভাবনা ও স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন দৈনিক সকালে’র প্রতিনিধি আবু তাহের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য মামুন সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার চাওয়া থাকবে, আগামীর বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিক তার যথাযথ মর্যাদায় বসবাস করবে এবং ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে। এখন নির্বাচন শেষ, কিন্তু দায়িত্বের পথ এখনই শুরু। জয়-পরাজয়ের উচ্ছ্বাস পেরিয়ে আসুক আত্মসমালোচনা, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং জনকল্যাণের দৃঢ় অঙ্গীকার। গণতন্ত্র কেবল ভোটের দিনে নয়, প্রতিদিনের জবাবদিহি, সহনশীলতা ও নাগরিক সচেতনতায়ই তা শক্তিশালী হয়। আসুন, বিভাজন নয়-পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের মাধ্যমে এগিয়ে নেই আমাদের দেশ।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল্লাহ রিমন বলেন, ‘জুলাইয়ের এই বর্ষা বিপ্লব ও ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর আমরা যে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি, সেই জায়গা থেকে আমাদের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশ যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদের কবলে নিমজ্জিত না হয়। বিশেষ করে এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, বিজয়ী ও পরাজিত সকল দলের প্রতি একটি যৌথ দায়িত্ব রয়েছে,

যেন দেশে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। সে ক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার তার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থেকে যথাযথভাবে কাজ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর কাছেও আমাদের আশা, তারা বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে। অতীতে আমরা দেখেছি, বিরোধী দলগুলো অনেক সময় নিজেদের একমাত্র দায়িত্ব হিসেবে সরকারবিরোধিতাকেই বেছে নিয়েছে। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পর আমরা মনে করি,

বিরোধী দলের দায়িত্ব কেবল সবকিছুতে বিরোধিতা করা নয়, বরং রাষ্ট্র গঠনে সরকারের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। সরকার যদি কোনো ক্ষেত্রে ভুল করে, তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরা এবং সঠিকভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করাই হওয়া উচিত বিরোধী দলের ভূমিকা। এভাবে দায়িত্ব পালন করা গেলে আমরা আশা করি, বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠবে না। সরকারি দলের প্রতিও আমাদের প্রত্যাশা, তারা এমনভাবে বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যাতে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ধ্বংসপ্রাপ্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠিত হয় এবং কার্যকরভাবে দাঁড়িয়ে যায়।

বিশেষ করে যে জুলাই সনদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় পেয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে এটাই জনগণের আশা। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাস পরিস্থিতির কথাও গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আন্দোলনের আগে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কায়দায় যেভাবে ক্যাম্পাসগুলো দখলে রেখেছিল, তাতে শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য সকল সংগঠনের কার্যক্রম প্রায় নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকারেও বারবার হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা এই ধরনের ক্যাম্পাস, এই ধরনের বাংলাদেশ চাই না। আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস চাই, যেখানে সকল শিক্ষার্থী তাদের নিজস্ব অধিকার ভোগ করতে পারবে। নতুন সরকারের কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির একটি ছাত্র সংগঠন হিসেবে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’

কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ঐশ্বর্য হৃদয় বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের কাছে আমাদের যেমন অনেক প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি আমার ব্যক্তিগত চাওয়াও রয়েছে। সর্বপ্রথম আমি চাই, এই সরকার যেন জননিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে হতে হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আমি যেহেতু একজন শিক্ষার্থী, তাই শিক্ষাখাতে বাজেটের একটি বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়ার প্রত্যাশা করি।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সরকার বড় অঙ্কের বাজেট ব্যয় করবে এবং সেই ব্যয় জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই আশা রাখি। এছাড়া আমাদের চিকিৎসা খাত দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই ভঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রত্যাশা জানাই সরকারের কাছে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

হাসপাতালগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমমানের হাসপাতাল নির্মাণ করে সেখানে দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্রমিকদের অধিকার। দেখা যায়, ন্যায্য মজুরির দাবিতেও শ্রমিকদের আন্দোলনে নামতে হয়। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাও আমরা দেখেছি। আমি চাই, এই গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে কোনো শ্রমিক যেন তার বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য না হয় এবং পুলিশ যেন লাঠিচার্জ বা গুলি না চালায়। সরকারের কাছে অনুরোধ, একটি নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হোক, যাতে একজন শ্রমিক বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করতে পারে।’

ইতিহাস শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন পর জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে, যা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা বহন করে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।

এর মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন জানিয়েছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও রিজার্ভ দুর্বল হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। শিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তবমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যখাতে মানসম্মত চিকিৎসা এবং গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা একটাই, কথায় নয়, কাজে উন্নয়ন- পরিসংখ্যানে নয়, মানুষের জীবনে পরিবর্তন।’

সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী সৈতি মন্ডল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কৃতির উপর যেই নগ্ন হামলা হয়েছে, সেটা যেন আর না হয়। আমি সংগীতের ছাত্রী। সংগীত একটি পরিবেশনা বিদ্যা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন সংগীতের আসর পন্ড করা হয়েছে, মাজারে হামলা হয়েছে, বাউলদের উপর হামলা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এক প্রকার বাধাগ্রস্ত ছিল।

এরকম ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা একটি মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ চাই, যেখানে মুক্তভাবে কোনো বাধা ছাড়া সংস্কৃতি চর্চা করতে পারবো। শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। সেইসাথে সংগীত, নাট্যকলা, চারুকলা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে যেন শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে, তাই কর্মক্ষেত্র বাড়াতে হবে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার অমি বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, দেশে এসেছে নতুন সরকার ও নতুন প্রধানমন্ত্রী। এই নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, তা হোক ন্যায়ের, মানবিকতার ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে আইনের শাসন থাকবে সবার জন্য সমান, যেখানে দুর্নীতির নয়, স্বচ্ছতার হবে শাসনের মূলনীতি, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ঘৃণার নয়, যেখানে উন্নয়ন হবে শুধু অবকাঠামোয় নয়,

মানুষের জীবনমানেও। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ হোক কর্মসংস্থানের বাংলাদেশ, যুবকদের জন্য আশার, কৃষকের জন্য ন্যায্যমূল্যের, শ্রমিকের জন্য মর্যাদার, নারীর জন্য নিরাপত্তার বাংলাদেশ। আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সরকার ও জনগণ মুখোমুখি নয়, পাশাপাশি হাঁটবে, যেখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু বিভাজন নয়। যেখানে রাজনীতি হবে সেবার মাধ্যম, ক্ষমতার নয়। এই প্রত্যাশা নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে।’

শিক্ষাঙ্গন

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেকৃবির সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার

শেকৃবি প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ২২:৪৮

শেকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কৃষিবিদ সানোয়ার আলম সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

নেতাকর্মীরা জানান, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি কৃষি ও কৃষক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

এদিকে যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

যবিপ্রবির প্রথম উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান

যবিপ্রবি প্রতিনিধি: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রথম বারের মতো উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। রবিবার (২৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো: শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা […]

নিউজ ডেস্ক

২৮ জুন ২০২৬, ২২:২০

যবিপ্রবি প্রতিনিধি:

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রথম বারের মতো উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান।

রবিবার (২৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো: শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসানকে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হল।

যোগদানের তারিখ থেকে তিনি চার বছর মেয়াদে উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তাঁর মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রজ্ঞাপনটি আমি হাতে পেয়েছি। আমার এখানে কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ করে আজকে বা কালকের মধ্যে আমি যবিপ্রবিতে জয়েন করবো। 

উল্লেখ্য, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন( আইবিএ) থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনে শিক্ষকতা শুরু করেন।