শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ক্রিপ্টো প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪.১৪ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনল সিআইডি

এমটিএফই পনজি স্কিমের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা) দেশে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চীনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ওকেএক্সে সংরক্ষিত এই অর্থ যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সহায়তায় দেশে ফেরত আনা হয়েছে। মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই) ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ […]

ক্রিপ্টো প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪.১৪ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনল সিআইডি

ক্রিপ্টো প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪.১৪ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনল সিআইডি

নিউজ ডেস্ক

৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩

এমটিএফই পনজি স্কিমের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা) দেশে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চীনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ওকেএক্সে সংরক্ষিত এই অর্থ যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সহায়তায় দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই) ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু বিনিয়োগকারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। প্রতারণামূলক ওই প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর এই উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।

২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট এক ভুক্তভোগী ডিএমপির খিলগাঁও থানায় মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর আওতায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, এমটিএফই বিনিয়োগ অ্যাপে প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ বা এমটিএফই ২০২২ সালের জুনে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। ঘরে বসে সহজে আয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। ব্যবহারকারীদের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট খোলা, ক্রিপ্টোকারেন্সি জমা রাখা এবং প্রতিদিন লগইন করার মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত আয়ের প্রলোভন দেখানো হতো। অন্যদের যুক্ত করলে অতিরিক্ত বোনাসের কথাও বলা হতো।

বাস্তবে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত অর্থ ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া; লাভ-ক্ষতির হিসাবও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হতো। প্রকৃত অর্থ বিদেশে পাঠিয়ে বাংলাদেশ থেকে বৃহৎ পরিসরে অর্থ পাচার করা হয়। কানাডায় নিবন্ধিত বলে দাবি করলেও দেশে তাদের কোনো অফিস ছিল না। বিনিয়োগকারী টানতে তথাকথিত ‘টিম লিডারদের’ ওপর নির্ভর করত এমটিএফই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই স্কিমটি শহর ও গ্রাম উভয় এলাকার মানুষকে প্রলুব্ধ করে এবং ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ধসে পড়ে। যা ফলে লাখো মানুষ প্রতারণার শিকার হন।

সিআইডির অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেল

সিআইডির তদন্তে দেখা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি অংশ—প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউএসডিটি (টেথার)—ওকেএক্স এক্সচেঞ্জে সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ‘চেইনঅ্যানালাইসিস রিয়্যাক্টর’ ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া যায়, এই অর্থ এমটিএফই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। পরবর্তীতে ওকেএক্সের আইন বিভাগ আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনতে সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সক্রিয় ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালতের হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় অর্থ গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য একটি যৌথ হিসাব খোলা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জব্দ করা ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে সরকারি হিসাবে স্থানান্তরের জন্য সিআইডি যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

এর ফলে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা) সোনালী ব্যাংকে সিআইডির হিসাবে জমা হয়েছে। ডিআইজি তালুকদার জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সহায়তার কারণে মামলা দায়েরের তিন বছরেরও কম সময়ে এই অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদঘাটন, ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ এবং অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমটিএফই পনজি স্কিমের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাকি অর্থ শনাক্ত ও দেশে ফেরত আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।