রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

স্বাস্থ্য

আজ বিশ্ব এইডস দিবস, এবার সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা

দেশে গত এক বছরে (২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর) এইডসে মারা গেছেন ১৯৫ জন। এ বছর নতুন করে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) পজিটিভ শনাক্তের পর এবার এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (টিবি-এল অ্যান্ড এএসপি) সূত্রে […]

নিউজ ডেস্ক

০১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৩৮

দেশে গত এক বছরে (২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর) এইডসে মারা গেছেন ১৯৫ জন। এ বছর নতুন করে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) পজিটিভ শনাক্তের পর এবার এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (টিবি-এল অ্যান্ড এএসপি) সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আজ ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। এ উপলক্ষে দেশের এইডসসংক্রান্ত নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশ্ব এইডস দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘অধিকার নিশ্চিত হলে, এইচআইভি/এইডস যাবে চলে’।

এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এ বছর এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। তবে বয়সে তরুণদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্তের হার বেড়ে গেছে। বিবাহিতদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি।

এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং হিজড়াদের মধ্যেও সংক্রমণ কমছে না। তরুণ বয়সী এবং হিজড়া ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ঝুঁকির মধ্যে আছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৯৮৯ সালে এক ব্যক্তির এইচআইভি শনাক্ত হয়। এরপর প্রতিবছরই এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। দু-এক বছর এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কমে গেলেও বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাই ছিল বেশি। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের বছর বাদ দিলে গত ১০ বছরে এইচআইভিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭৬। সে অনুযায়ী, চলতি বছর ১৬২ জন রোগী বেড়েছে।

চলতি বছর নতুনভাবে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ ভাগেরই বয়স ২৫ থেকে ৪৯ বছর। আর ২১ ভাগের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছর। গত বছর এই তরুণ বা ১৯ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ছিল ১৬ ভাগ।

এ বছর মোট আক্রান্তের মধ্যে ১০ শতাংশ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। গত বছর এ হার ছিল ১২ শতাংশ। মোট সংক্রমণের ১ শতাংশ হিজড়া। গত বছরও তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার এমনই ছিল।

 

এই তিন গোষ্ঠীসহ সমকামী, নারী যৌনকর্মী, শিরায় মাদক সেবনকারীরাও এইচআইভির ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

গত বছর বিবাহিতদের মধ্যে সংক্রমণের হার ছিল ৬০ শতাংশ। আর অবিবাহিতদের মধ্যে তা ছিল ৩১ শতাংশ। গত বছরের মতো এবারও ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে এইচআইভিতে।

গত বছর এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৬৬। এবার এ সংখ্যা ১৯৫ বিষয়েও নজর দেওয়া দরকার।

দেশের প্রায় সব জেলা সদরের সরকারি হাসপাতালে এইচআইভি সংক্রমণ পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও উপজেলা হাসপাতালে তা নেই। উপজেলা পর্যায়ে এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার বলে মনে করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

স্বাস্থ্য

৫ আগস্টের পর থেকেই ডিস্টার্ব করতেন যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন : ডা. কামরুল

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অপচেষ্টা ও ‘মব’ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১১ এপ্রিল) হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই জনৈক মঈন উদ্দিন (যুবদল নেতা) বিভিন্ন ধরনের মালামাল […]

নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৭

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অপচেষ্টা ও ‘মব’ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই জনৈক মঈন উদ্দিন (যুবদল নেতা) বিভিন্ন ধরনের মালামাল সরবরাহের কাজ চাইছিলেন। এ নিয়ে নানা সময়ে ডিস্টার্ব করতেন।

এমনকি আমার অজ্ঞাতসারে ডিম ও চালও সরবরাহ করতেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি, বাজারদরের চেয়ে প্রতি কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। আমাদের তো এটি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় যে এত বেশি দামে কিনবো। তখন আমরাই সরাসরি বাজার থেকে আনার সিদ্ধান্ত নেই।’

তিনি বলেন, এই অনিয়ম বন্ধ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে এসে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

‘এছাড়া এর আগে গত ২৯ মার্চও তিনি হাসপাতালে এসে কর্মচারীদের হুমকি দেন এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২২৬৬) করা হয়েছে।’

অধ্যাপক কামরুল বলেন, ‘আমরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা বলেছেন, এই ছেলে খারাপ, কাউকে মানে না। মবের পর পুলিশও ভয় পাচ্ছে দেখলাম। আমরা ভয় পাই, পুলিশও ভয় পেলে কীভাবে চলবে?’

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি রোগী ও স্টাফদের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রশাসন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক কামরুল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জাতীয়

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল ৯৪ শিশু

হামের প্রকোপে দেশজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক-উদ্বেগ আর মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন মারা গেছে। রাজধানীসহ দেশের চার জেলায় ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪ শিশু। মূলত, রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝেও ছড়িয়েছে ভয়-আতঙ্ক। গত ২৯ মার্চ থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। ৬ […]

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল ৯৪ শিশু

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল ৯৪ শিশু

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১

হামের প্রকোপে দেশজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক-উদ্বেগ আর মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন মারা গেছে। রাজধানীসহ দেশের চার জেলায় ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪ শিশু।

মূলত, রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝেও ছড়িয়েছে ভয়-আতঙ্ক। গত ২৯ মার্চ থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা পাবে হামের ভ্যাকসিন।

চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মত টিকা না পাওয়ার কারনেই হামে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। ভ্যাকসিন দেয়ার ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে। সেক্ষেত্রে, আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর সময়মত শিশুদের টিকা দেওয়া না হলে হাম নিউমোনিয়াসহ কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।


উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে ২ জন ও কক্সবাজার জেলায় ২ জন শিশু মারা গেছে। হামের উপসর্গ সন্দেহে ঢাকাসহ ৮ বিভাগে ৯৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জনের হাম সনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য

সরকারি তথ্যেই হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর

হামের সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি তথ্যেই হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমতে আর দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। তারা বলেছেন, সারা বিশ্বেই হাম বেড়েছে, তবে বাংলাদেশের মতো এত শিশুর মৃত্যু কোথাও হয়নি। বিশেষজ্ঞরা হামের এই প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে […]

সরকারি তথ্যেই হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর

সরকারি তথ্যেই হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর

নিউজ ডেস্ক

১১ মে ২০২৬, ১০:০০

হামের সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি তথ্যেই হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমতে আর দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।

তারা বলেছেন, সারা বিশ্বেই হাম বেড়েছে, তবে বাংলাদেশের মতো এত শিশুর মৃত্যু কোথাও হয়নি। বিশেষজ্ঞরা হামের এই প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে শিশুকে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিড না করানো, সময়মতো টিকা না দেওয়া, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন না হওয়া, পুষ্টিহীনতা এবং সর্বোপরি শিশুর রোগ প্রতিরোধে ঘাটতিকে দায়ী করেন।

সংক্রমণ চিত্র:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৫ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত ৩৪৪ জনের। হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১১ শিশুর। মৃত্যু হওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ৪ শিশুর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো হামবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৫০৩ জন। এসময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০৫ শিশুর শরীরে। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭০৮ শিশু। নিশ্চিত হামে ঢাকায় ৩ শিশু ও বরিশালে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় ৩, চট্টগ্রামে ২ ও সিলেটে ২ শিশু মারা গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৯ হাজার ১৫৯ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪ হাজার ৯০৯ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩০ হাজার ৮৬২ শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৮১৯ জন।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেডিয়াট্রিক ইনফেকশন ডিজিজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারিজনিত টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি (ইমিউনিটি গ্যাপ) হামের সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিউমোনিয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের ‘হার্ড ইমিউনিটি’ সীমার নিচে নেমে গেলে সেখানে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হাম মোকাবিলায় ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে আক্রান্ত শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করা জরুরি। মির্জা জিয়াউল বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। পাশাপাশি শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর, খেতে না পারা কিংবা তীব্র ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান—(আইইডিসিআর)-এর প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সারা বিশ্বে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত মৃত্যুহার বাড়েনি। দেশের চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দুই মাস থাকবে। তবে মুশকিল হলো, পরিত্রাণের পর আমরা আবার হাম মোকাবিলার কথা ভুলে যাব।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেন, সারা দেশে শিশুদের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। ছয় মাস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত ভ্যাকসিন দিতে হবে। সেই সঙ্গে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।

১ কোটি ৭৩ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান সম্পন্ন: এদিকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা গ্রহণ করেছে। সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ পূরণ হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-রুবেলা টিকাদান সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভাগভিত্তিক টিকা গ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা হিসেবে বরিশালে ১০ লাখ ৮ হাজার ৩০১ জন, চট্টগ্রামে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭২, ঢাকায় ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০, খুলনায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৬, ময়মনসিংহে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ১৫, রাজশাহীতে ২০ লাখ ২০ হাজার ৩৭৩, রংপুরে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১৯৬ এবং সিলেটে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৫ জন।