বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য খবর

পালক মা-বাবা-বোনকে হত্যা, সেই ইমামের ফাঁসির রায়

পাবনায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার (৬০), তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন (৫০) ও দত্তক নেওয়া মেয়ে সানজিদা (১২) হত্যা মামলায় পালিত ছেলে ও মসজিদের ইমাম তানভীর হোসেনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ পাঁচ বছর মামলা চলার পর সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে পাবনা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩ এর বিচারক তানভীর আহমেদ এ রায় ঘোষণা […]

পালক মা-বাবা-বোনকে হত্যা, সেই ইমামের ফাঁসির রায়

পালক মা-বাবা-বোনকে হত্যা, সেই ইমামের ফাঁসির রায়

নিউজ ডেস্ক

২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৩:০৫

পাবনায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার (৬০), তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন (৫০) ও দত্তক নেওয়া মেয়ে সানজিদা (১২) হত্যা মামলায় পালিত ছেলে ও মসজিদের ইমাম তানভীর হোসেনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ পাঁচ বছর মামলা চলার পর সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে পাবনা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩ এর বিচারক তানভীর আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

ঘটনার নেপথ্য

আব্দুল জব্বার ছিলেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। নিঃসন্তান এই দম্পতি একদিন বয়সী শিশু সানজিদাকে দত্তক নিয়ে পাবনার দিলালপুর মহল্লায় বসবাস করতেন। এ ছাড়া তারা বাসার পাশের পাবনা ফায়ার সার্ভিস মসজিদের ইমাম তানভীর হোসেনকে ছেলে হিসেবে লালনপালন করছিলেন। তারা তাকে পরিবারের সদস্যের মতোই যত্ন নিতেন তানভীরও তাদের বাবা-মা বলে ডাকতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে জব্বারের সঞ্চয়, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের প্রতি লোভ জন্ম নেয় তানভীরের মনে। পরিকল্পনা শুরু করেন পুরো পরিবারকে হত্যা করে সম্পদ দখলের।

নির্মম হত্যাকাণ্ড

মসজিদ থেকে ছুটি নিয়ে ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ২০২০ সালের ৩১ মে রাতে নিজ গ্রাম নওগাঁর হরিপুর থেকে ফিরে এসে জব্বারের দিলালপুর মহল্লার ভাড়া বাসায় ওঠেন তানভীর। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র ও কাঠের বাঁটাম দিয়ে প্রথমে ব্যাংক কর্মকর্তা জব্বার, পরে তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন এবং সর্বশেষ সানজিদাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এরপর বাথরুমে গিয়ে গোসল করে রক্তমাখা কাপড় ধুয়ে বাড়ির আলমারি ও আলমারির লকার থেকে নগদ দুই লাখ টাকা, এক লাখ ভারতীয় রুপি এবং স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ফজরের আজানের সময় নির্বিঘ্নে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।

ঘটনার পাঁচ দিন পর ৫ জুন লাশ পঁচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের দেওয়া খবরে পুলিশ বাসা থেকে তিন জনের লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি উৎঘাটনে মাঠে নামেন তৎকালীন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে একাধিক টিম। ঘটনার মাত্র একদিন পর ৬ জুন রাতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যার কথা স্বীকার করেন। সেই সময় তার দেখানো স্থান থেকে লুণ্ঠিত কিছু মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ।

আদালতের রায়

দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে প্রায় পাঁচ বছর পর সোমবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি তানভীর হোসেনকে তিন জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) দেওয়া হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম সরোয়ার খান জুয়েল উপস্থিত থাকলেও আসামিপক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না।পাবনায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার (৬০), তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন (৫০) ও দত্তক নেওয়া মেয়ে সানজিদা (১২) হত্যা মামলায় পালিত ছেলে ও মসজিদের ইমাম তানভীর হোসেনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ পাঁচ বছর মামলা চলার পর সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে পাবনা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩ এর বিচারক তানভীর আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

ঘটনার নেপথ্য

আব্দুল জব্বার ছিলেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। নিঃসন্তান এই দম্পতি একদিন বয়সী শিশু সানজিদাকে দত্তক নিয়ে পাবনার দিলালপুর মহল্লায় বসবাস করতেন। এ ছাড়া তারা বাসার পাশের পাবনা ফায়ার সার্ভিস মসজিদের ইমাম তানভীর হোসেনকে ছেলে হিসেবে লালনপালন করছিলেন। তারা তাকে পরিবারের সদস্যের মতোই যত্ন নিতেন তানভীরও তাদের বাবা-মা বলে ডাকতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে জব্বারের সঞ্চয়, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের প্রতি লোভ জন্ম নেয় তানভীরের মনে। পরিকল্পনা শুরু করেন পুরো পরিবারকে হত্যা করে সম্পদ দখলের।

নির্মম হত্যাকাণ্ড

মসজিদ থেকে ছুটি নিয়ে ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ২০২০ সালের ৩১ মে রাতে নিজ গ্রাম নওগাঁর হরিপুর থেকে ফিরে এসে জব্বারের দিলালপুর মহল্লার ভাড়া বাসায় ওঠেন তানভীর। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র ও কাঠের বাঁটাম দিয়ে প্রথমে ব্যাংক কর্মকর্তা জব্বার, পরে তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন এবং সর্বশেষ সানজিদাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এরপর বাথরুমে গিয়ে গোসল করে রক্তমাখা কাপড় ধুয়ে বাড়ির আলমারি ও আলমারির লকার থেকে নগদ দুই লাখ টাকা, এক লাখ ভারতীয় রুপি এবং স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ফজরের আজানের সময় নির্বিঘ্নে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।

ঘটনার পাঁচ দিন পর ৫ জুন লাশ পঁচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের দেওয়া খবরে পুলিশ বাসা থেকে তিন জনের লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি উৎঘাটনে মাঠে নামেন তৎকালীন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে একাধিক টিম। ঘটনার মাত্র একদিন পর ৬ জুন রাতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যার কথা স্বীকার করেন। সেই সময় তার দেখানো স্থান থেকে লুণ্ঠিত কিছু মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ।

আদালতের রায়

দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে প্রায় পাঁচ বছর পর সোমবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি তানভীর হোসেনকে তিন জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) দেওয়া হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম সরোয়ার খান জুয়েল উপস্থিত থাকলেও আসামিপক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না।

অন্যান্য খবর

গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি

আবু তাহের,ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন টিএসসি ভবনের দেয়ালে লেখা হয় ‘সব দেয়ালে লিখে দে, গুপ্ত দেখলে থুথু দে’। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক হলের দেয়াল ছেয়ে গেছে ‘একটা একটা […]

গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭

আবু তাহের,ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন টিএসসি ভবনের দেয়ালে লেখা হয় ‘সব দেয়ালে লিখে দে, গুপ্ত দেখলে থুথু দে’। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক হলের দেয়াল ছেয়ে গেছে ‘একটা একটা গুপ্ত ধর, ধইরা ধইরা প্যাকেট কর’, ‘গুপ্ত কট’, ‘গুপ্ত সন্ত্রাস’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে। এছাড়াও ডাস্টবিনগুলোতে লেখা হয়েছে ‘আমি গুপ্ত’, ‘গুপ্তদের এখানে রাখুন’।

ছাত্রদল নেতাদের মতে, ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে থেকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বা ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড রুখতেই তাদের এই উদ্যোগ। শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সারা বাংলাদেশে চলমান এই পরিস্থিতিতে গুপ্ত শিবিরেরা ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে গুপ্ত হয়ে আছে।

আমরা চাই বাংলাদেশে এই গুপ্ত বাহিনী নিপাত যাক এবং সাধারণভাবে মানুষের সাথে মিশে প্রয়োজনে রাজনীতি করুক। এই ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন কাউকে পাওয়া গেলে, শক্ত হাতে দমন করবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মামুন সরকার জানান, ৫ আগস্টের পর একটা পক্ষের দাবি ছিলো রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থী নাম ব্যবহার করে তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের তাদের গুপ্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করতে হলে ওপেনে করুক। ইতিবাচক হলেও গোপনে কোনো রাজনীতি হয় না। আমরা আজকে থেকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে গুপ্ত রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করছি। গুপ্তদের ঠিকানা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হবে না।

ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ঐশ্বর্য সরকার বলেন, আমরা আদর্শবাদী রাজনীতির ধারাকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেয়াল লিখন করেছি। এই বাংলাদেশে কখনো গুপ্ত রাজনীতি এবং রাজনীতির নামে অপরাজনীতি চলতে দেয়া যাবে না। আমরা দেয়ালে লিখেছি ‘দড়ি ধরে মারো টান, গুপ্ত যাবে পাকিস্তান’।

নজরুলের এই বিদ্রোহী ক্যাম্পাস থেকে আমরা সকল ধরনের গুপ্ত রাজনীতি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। আমরা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, সাধারণ শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অপতৎপরতা আর চলতে দেয়া যাবে না। এই ধরনের গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

অন্যান্য খবর

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি-এর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর এই শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাহিদাকে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে […]

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি-এর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর এই শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাহিদাকে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার জীবিত বা মৃত অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে নিখোঁজ ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে, যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন-এর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় তল্লাশি জোরদার করেছে এবং স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

অন্যান্য খবর

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হিশামের ভাই সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, হিশামের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে তারা আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন। হিশামের ২২ বছর বয়সী ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ সিবিএস নিউজকে বলেন, তার বড় ভাই খুব দ্রুত রেগে যেতেন। রুমমেটদের সঙ্গে […]

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

নিউজ ডেস্ক

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হিশামের ভাই সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, হিশামের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে তারা আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন।

হিশামের ২২ বছর বয়সী ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ সিবিএস নিউজকে বলেন, তার বড় ভাই খুব দ্রুত রেগে যেতেন। রুমমেটদের সঙ্গে শেয়ার করা কোনো বাসায় তার থাকা উচিত ছিল না।

আহমদ আরও বলেন, ও (হিশাম) যে রুমমেটদের সঙ্গে থাকত, তা আমি জানতাম না। ওর হয় একা থাকা উচিত ছিল, না হয় গৃহহীন হয়ে পথে থাকা উচিত ছিল।

২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ তার রুমমেট জামিল লিমন (২৭) এবং নাহিদা বৃষ্টি (২৭) হত্যার ঘটনায় দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি খুনের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় গত রোববার মানবদেহের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, যদিও সেগুলো এখনো বৃষ্টির কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, টাম্পা বে-র ওপর অবস্থিত হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর বা তার কাছাকাছি এলাকায় উভয়ের মরদেহের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে।

হিশামের ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ জানান, গত শুক্রবার সকালে হিশাম হঠাৎ তাদের বাড়িতে হাজির হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে ফোন করেছিলেন। তিনিও ফোনদাতাদের একজন ছিলেন।

আহমদ বলেন, সে খুবই অদ্ভুত আচরণ করছিল, তাই তাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমি পুলিশ ডাকি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকেই পরিবারের সঙ্গে হিশাম আবুঘারবিয়েহের কোনো যোগাযোগ ছিল না।

হিশাম আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। ঘটনার দিন লিভিং রুমে হিশামকে কেবল তোয়ালে পরা অবস্থায় ভিডিও গেম খেলতে দেখেন তার ছোট বোন। ওই সময় ছোট বোন এর প্রতিবাদ জানালে হিশাম তার দিকে এগিয়ে যান এবং চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

গত শুক্রবার বেশ নাটকীয়ভাবে হিশাম আবুঘারবিয়েহকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ডেপুটিরা যখন তাকে ঘিরে ধরেন, তখন তিনি কেবল একটি তোয়ালে পরা অবস্থায় হাত তুলে বেরিয়ে আসেন। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন হিশামের ভাই আহমদ। এতে তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের কথা ভাবা বন্ধ করতে পারছি না। আমার খুবই খারাপ লাগছে। যা ঘটেছে তার জন্য আমি সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী। আমি এবং আমার পুরো পরিবার প্রচন্ড লজ্জা ও অপরাধবোধে ভুগছি।

আহমদ আবুঘারবিয়েহ আরও বলেন, আমরা অতীতেও পুলিশকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে হিশাম আবুঘারবিয়েহের বিরুদ্ধে দুইবার সুরক্ষামূলক আদেশের (প্রোটেক্টিভ অর্ডার) আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৩ সালের আবেদনটি মঞ্জুর হলেও ২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়।

২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ করার সময় বিচারক উল্লেখ করেন যে, শারীরিক লাঞ্ছনার (ব্যাটারি) ফৌজদারি অভিযোগগুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়নি, তাই এই অনুরোধ রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

আহমদ জানান, আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৩ সালে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ নিয়ে তিনি আর সামনে এগোননি।

তিনি বলেন, আমি অভিযোগ তুলে নিয়েছিলাম কারণ আমার মনে হয়েছিল এতে অনেক টাকা খরচ হবে। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের পরপরই আমি অনুতপ্ত হয়েছিলাম।

২০২৩ সালের সেই সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদনের একটি কপি সিবিএস নিউজের হাতে এসেছে। সেখানে আহমদ লিখেছিলেন, তার ভাই তাকে কয়েকবার ঘুষি মেরেছিলেন ও শার্ট ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তিনি লেখেন, এতে আমার রক্তপাত হয় এবং মুখে কালশিটে পড়ে যায়। আমি পুলিশকে ফোন করতে বাইরে গেলে সে পরিবারের মিনিভ্যানটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কাজ হবে না বুঝতে পেরে সে আবার ফিরে আসে।

অন্য এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ছোট ভাই অভিযোগ করেন, হিশাম তার মায়ের সঙ্গে সামান্য তর্কের পর পুরো বসার ঘর (লিভিং রুম) তছনছ করে ফেলেছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ভাই ‘মাঝরাতে চিৎকার করে নিজেকে ঈশ্বর দাবি করতেন এবং বলতেন যে আমাদের সবার উচিত তার সামনে মাথা নত করা।

হিশাম আবুঘারবিয়েহ পক্ষে লড়ছে হিলসবরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের অফিস। সংস্থাটির এক মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি এই মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। তবে পেশাগত নৈতিকতা এবং আমাদের মক্কেলের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে আমরা জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের মক্কেলের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়েই আমরা বর্তমানে মনোনিবেশ করছি।

আহমদ আবুঘারবিয়েহের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানিয়েছে, হিশাম আবুঘারবিয়েহ সমাজের জন্য এখনো এক বড় হুমকি এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিনহীনভাবে কারাগারে রাখা উচিত।

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল। তারা সত্য জানার জন্য যে অপেক্ষা করছেন, আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি।

এদিকে সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।