বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির স্বাতন্ত্র্য কোথায়—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ‘ওয়েলফেয়ার রাজনীতি’ এবং ‘ভালো মানুষের রাজনীতি’কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন লেখক ও বিশ্লেষক মির্জা গালিব।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেকেই রাজনীতিতে আসেন ক্ষমতা, অর্থ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচিতি অর্জনের উদ্দেশ্যে। তবে জামায়াত-শিবিরের মধ্যে নিজের অর্থ ব্যয় করে মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি সংস্কৃতি রয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক দর্শনের অংশ।
মির্জা গালিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক দর্শনে রাজনীতি একটি ‘ইবাদত’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। তিনি মনে করেন, এই সাংগঠনিক সংস্কৃতির সম্প্রসারণ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হতে পারে, যেখানে জনগণের করের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার প্রবণতা গুরুত্ব পাবে।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংযমী হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আইনগতভাবে বৈধ হলেও অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ দলটির ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, দলের সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি গ্রহণ করবেন না—এ ধরনের অবস্থান জনগণের কাছে ওয়েলফেয়ার রাজনীতির বার্তা পৌঁছে দিতে সহায়ক।
অন্যদিকে ‘ভালো মানুষের রাজনীতি’কে জামায়াতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা গালিব। তার মতে, সমাজে অনেক সৎ ও যোগ্য মানুষ রয়েছেন, যারা সাধারণত রাজনৈতিক অঙ্গনে আসতে আগ্রহী হন না। কারণ রাজনীতিতে নানা ধরনের ঝুঁকি, নির্যাতন ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আদর্শিক প্রেরণার মাধ্যমে জামায়াত-শিবির এসব মানুষকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি মনে করেন, বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে জামায়াতের অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ। তাই দলটির উচিত এমন আচরণ ও নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করা, যা তাদেরকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে পৃথক হিসেবে তুলে ধরবে এবং জনগণের কাছে তাদের কল্যাণভিত্তিক রাজনৈতিক মডেলের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে মির্জা গালিব বলেন, কোনো আইন বা সরকারি বরাদ্দ যদি দলের ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তার বিরোধিতা করাই উচিত। একই সঙ্গে তিনি এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান, যা জনগণের কাছে জামায়াতের ওয়েলফেয়ার রাজনীতির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।