জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, একটি পক্ষ বুলেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর আমরা ব্যালটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই বুলেটের রাজনীতিকে ব্যালটের রাজনীতির মাধ্যমেই পরাজিত করা হবে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন তরুণ প্রজন্ম ও শহীদদের রক্তে অর্জিত। তাই এই নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি হলে জনগণের ক্ষোভ সামলানো যাবে না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনায় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সমর্থনে ফুলতলায় এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
নির্বাচনে পুলিশকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যদি কোনো পুলিশ অবৈধ টাকার মুখোমুখি হন, তাহলে সন্তান, বাবা-মা ও দেশের মানুষের কথা মনে রাখবেন। আগের মতো যদি আবার ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়, তাহলে জনগণের বিদ্রোহ ঠেকানো সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, অতীতের তিনটি নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেওয়া হয়েছে এবং ডামি নির্বাচন চালানো হয়েছে। এবার এসব চলতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন কোনো সহজ অর্জন নয়। সহস্র মানুষ শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আয়নাঘর শুধু একটি স্থাপনা ছিল না, পুরো দেশই নিপীড়িত মানুষের জন্য উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল। বায়তুল মুকাররমের সামনে লগি-বৈঠার রাজনীতি থেকে শুরু করে ওসমান হাদির শাহাদাত পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তাক্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আজকের নির্বাচন এসেছে। এই নির্বাচন শহীদদের রক্তে লেখা।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক সত্য তুলে ধরতে চান, কিন্তু মালিকানার কারণে পারেন না। একটি গোষ্ঠী টেলিভিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি চালাচ্ছে। তবে জনগণ জেগে উঠলে কোনো মিডিয়ার প্রয়োজন হয় না, জনগণই মিডিয়া হয়ে ওঠে।
ডুমুরিয়া ও ফুলতলার ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটি পক্ষ কালো টাকা আর টাকার বস্তা নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে। ভোটের আগে একদিন টাকা নিয়ে পাঁচ বছর গোলাম থাকবেন, নাকি বিনা পয়সায় ভোট দিয়ে পাঁচ বছর সেবা নেবেন—এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের নিতে হবে। তিনি বলেন, ভোট একটি পবিত্র আমানত। শত সহস্র শহীদের রক্তের দোহাই দিয়ে বলছি, ভোট কেনাবেচা করবেন না।