শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

ক্ষমতায় গেলে জামায়াত কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করবে, এটি জঘন্য মিথ্যাচার : ডা.শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল জামাতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নাকি কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে, এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার। আপনারা এসব মিথ্যার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকবেন। কওমি মাদ্রাসা হলো আমাদের কলিজা। তিনি বলেন, তারা দ্বীনকে ধরে রেখেছে। যারা আলেমদের ভয় দেখায়, তারা মূলত মতলববাজ। জামায়াতের বিরুদ্ধে চলমান […]

ক্ষমতায় গেলে জামায়াত কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করবে, এটি জঘন্য মিথ্যাচার : ডা.শফিকুর রহমান

ক্ষমতায় গেলে জামায়াত কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করবে, এটি জঘন্য মিথ্যাচার : ডা.শফিকুর রহমান

নিউজ ডেস্ক

৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:১১

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল জামাতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নাকি কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে, এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার। আপনারা এসব মিথ্যার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকবেন। কওমি মাদ্রাসা হলো আমাদের কলিজা।

তিনি বলেন, তারা দ্বীনকে ধরে রেখেছে। যারা আলেমদের ভয় দেখায়, তারা মূলত মতলববাজ। জামায়াতের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থেকে তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের গড়ার ডাক দেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাই বিপ্লবে ফেনীর রাজপথে শাহাদাতবরণকারী তরুণদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বিশেষভাবে শহীদ আবরারের কথা স্মরণ করে বলেন, আবরার ফাহাদ এই দেশের সার্বভৌমত্ব ও ফেনী নদীর পানির জন্য নিজের জীবন দিয়েছিলেন। যতদিন পৃথিবী থাকবে, এই জাতি তাকে ভুলবে না। আপনারা ফেনীর মানুষও আবরারকে কোনোদিন ভুলবেন না। আধিপত্যবাদের দালালরা তাকে সহ্য করতে পারেনি, কিন্তু তার রক্ত আজ আমাদের প্রেরণা।


তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ফেনীর মাটির গর্বিত সন্তান বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কখনো আধিপত্যবাদকে প্রশ্রয় দেননি। মহান আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের বাসিন্দা বানিয়ে দিন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ফেনীর উন্নয়নে তার দলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ‘রক্তের সাগরে’ ভেসে আসা নতুন বাংলাদেশে জুলুমের রাজত্ব অবসানের ডাক দিয়ে তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে কেবল একটি দলের বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি ফেনীর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, প্রতিটি জেলা যাতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যে ফেনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। লালপুলে যানজট নিরসনে একটি আধুনিক ওভারপাস নির্মাণ এবং বন্যা প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে ফেনী তার পাওনা পেয়ে গর্বিত হবে বলে তিনি যোগ করেন। এ ছাড়া প্রত্যেক জেলায় সরকারিভাবে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণে জামাতের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

বিগত বন্যায় ফেনীর ভয়াবহ ক্ষতির কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সে সময় রাজনৈতিক স্বার্থ না দেখে কোমর সমান পানি ভেঙে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গোটা দেশে রক্তে ভেসে গেছে। জামায়াত বিএনপির অনেক নেতাসহ বহু আলেম ওলামাকে হত্যা করা হয়েছে। দেশে তারা খুনের রাজত্ব শুরু করছিল। ফেনী ছিল সন্ত্রাসের রাজত্ব। এখানে যে পরিমাণ সন্ত্রাস হয়েছিল এটি অন্য কোনো জেলায় খুঁজে পাওয়া যায় না। ফেনীর তরুণ যুবসমাজের ও দেশের মায়েদের ত্যাগ ও আস্থার প্রতিদান দিতে জামায়াত শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করে জামায়াত আমির উপস্থিত লক্ষাধিক জনতার উদ্দেশে বলেন, আগামী ১২ তারিখ সকলকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। তিনি একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

জেলা জামাতের আমির মুফতি মাওলানা আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টি চেয়ারম্যান ও ১১ দলীয় জোটের ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এ.টি.এম মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। এতে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস.এম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা নায়েবে আমির মাওলানা মাহমুদুল হক ও অধ্যাপক আবু ইউসুফ, সাবেক জেলা আমীর, এ. কে. এম. শামছুদ্দিন,জাতীয় নাগরিক পার্টির ফেনী জেলা আহবায়ক জাহিদ হোসেন সৈকত, ডাকসু ভিপি সাদিক কাইয়ুম, শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক মোতাসিম বিল্লাহ শাহেদী খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জোনের সহকারী পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিল্লাত, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাঈল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জসিম উদ্দিন, ফেনী জেলা শিবিরের সভাপতি আবু হানিফ হেলাল, ফেনী শহর শাখার সভাপতি ওমর ফারুকসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০১

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০১

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০১